Showing posts with label কারামতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম. Show all posts
Showing posts with label কারামতে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম. Show all posts

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৫০

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৫০

পাবনার এক পীরবোন স্বপ্নে দেখেন, কোথাও তালীমের মজলিস হবে। সেখানে মহাসম্মানিতা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম, উম্মুল উযমা আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনয়ন করবেন। তাই উক্ত পীরবোন উনার মুবারক সাক্ষাৎ লাভের আশায় অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছেন। উক্ত পীরবোন বলেন, ‘আমি কিছুক্ষণ পরে দেখলাম, সেখানে একজন খুবছূরত, নূরানী চেহারা মুবারক উনার অধিকারিনী একজন মহাসম্মানিতা নিসা (মহিলা) তাশরীফ আনলেন। উনাকে আমি ইতিপূর্বে কখনো দেখিনি। দেখে মনে হচ্ছে, তিনি একজন অত্যন্ত শরীফ বংশের কেউ হবেন। তাই উনার নিকটে গিয়ে ক্বদমবুছী করে অত্যন্ত আদবের সহিত উনার নিকট জানতে চাইলাম, ‘আজকে এখানে আমাদের যিনি আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি তাশরীফ মুবারক আনার কথা। কিন্তু আপনি? আপনাকে আমি চিনতে পারছিনা। তখন তিনি বললেন, আমি স্বয়ং আন নুরুর রবি’য়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম। আমি এ কথা শুনে খুব আনন্দিত হয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার জন্য যেই আসন মুবারকটি নির্ধারণ করা হয়েছিল ; উক্ত আসনে হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম উনাকে বসানোর ব্যবস্থা করি।  আমি উনাকে পেয়ে এতই খুশি হয়েছি যে, আমি  আমার ব্যক্তিগত কিছু কথা জানালাম। এভাবে আমি আমার মনের যত কথা আছে সবকিছু উনাকে এক নিঃশ্বাসে জানাতে থাকলাম। ভাবলাম যে, উনাকে যদি আর সরাসরি দেখতে না পাই। তাই সব মনের কথা বলি। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা আন নুরুর রবিয়াহ হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি চুপ থাকলেন। আমি উনার চুপ থাকা দেখে ভয় পেলাম যে, কোন বেয়াদবী হয়ে গেল কিনা ......তারপরও কিছুক্ষণ পরে আমি আবার আগের মত সব আরজু পেশ করছিলাম, দোয়া চাচ্ছিলাম। ঠিক তখনই হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি আমাকে বললেন, “তোমাদের সব কথা তোমাদের যিনি মা  উম্মুল উমাম আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে জানাও। তিনিই উত্তম ফায়ছালাকারী। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। তোমরা এ সমস্ত বিষয় উনাকে জানাও। তিনি তোমাদের ফায়ছালা করে দিবেন ” এভাবে তিনি এ কথাগুলো বারবার বললেন। এরপর উক্ত পীরবোন দেখতে পান যে, ‘উক্ত নূরানী চেহারা মুবারক কিছুক্ষণ পর পর পরিবর্তন হয়ে যাচ্ছেন। একবার হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার চেহারা মুবারক, আরেকবার সাইয়্যিদাতুনা নাক্বীবাতুল উমাম শাহজাদী উলা আলাইহাস সালাম উনার চেহারা মুবারক, আবার কখনো হযরত নিবরাসাতুল উমাম শাহজাদী ছানিয়াহ আলাইহাস সালাম উনার মুবারক চেহারা ধারণ করছেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম!!) এভাবে একের পর এক পরিবর্তন হচ্ছিলেন। একজনের মাঝে চারজন সম্মানিতা ব্যক্তিত্ব উনাদের মুবারক চেহারা দৃষ্টিগোচর হচ্ছিল। স্বপ্নদ্রষ্টা পীর বোন অবাক হয়ে উক্ত চেহারা মুবারক সমূহ দেখতে থাকেন। সবশেষে সাইয়্যিদাতুনা হযরত যাহরা আলাইহাস সালাম তিনি তাবাস্সুমি শান মুবারক (মুচকি হাসি) প্রকাশ করে সেই স্থান থেকে চলে গেলেন। 
উক্ত বিষয়টি দ্বারা মহাসম্মানিতা ও মহাপবিত্রা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান-মান মুবারক মর্যাদা-মর্তবা মুবারক, ফাযায়িল-ফযীলত মুবারক, বেমেছাল বুযুর্গি-সম্মান মুবারক সম্পর্কে  জানা এবং বুঝা সম্ভব। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন মহান নিয়ামতে উজমা মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে চিনে উনার হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করে আবাদুল-আবাদ উনার পুত পবিত্র নুরুদ দারাজাত (ক্বদম) মুবারকে ইস্তেকামত থাকার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৯

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৯

এক পীর বোন নিয়মিত দরবার শরীফে আসতে পারেন না। তাই তিনি যে কোন অসুখ-বিসুখ, বিপদ-আপদ, অসুবিধা ইত্যাদির জন্য অন্য একজন পীর বোন (যিনি নিয়মিত মুবারক ছোহবতে আসেন) উনার মাধ্যমে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার নিকট দোয়া মুবারক চাইতেন। কিন্তু যাকে জানানো হতো তিনি হয়তো বা কখনো এক দিন পরে বা কখনো দুই দিন পরে, আবার কখনো উনার সুবিধা মত জানানোর কারণে অনেক দিন দেরী হয়ে যেত। অত্যন্ত আশ্চর্যের বিষয় যে, তিনি কেবলমাত্র ফোনের মাধ্যমে সংবাদ জানিয়েছেন; আর সাথে সাথেই বিপদমুক্ত হয়েছেন, কিংবা সুস্থতা লাভ করেছেন,  কিংবা যেকোন প্রয়োজন পুরা হয়ে গিয়েছে। অথচ, সংবাদটি তখনো সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট পৌঁছানো হয়নি।(সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
বলাবাহুল্য যে, পবিত্র দরবার শরীফ উনার যে কোন একজনকে যেকোন বিষয়ে জানিয়ে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট দোয়া মুবারক চাওয়া হলে, দেখা যায় হয়ত সেই মুহূর্তে  খবর পৌঁছানো সম্ভব হয়নি তারপরও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উছিলায় যাবতীয় বিষয় সমূহের ফায়ছালা হয়ে যায়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উছিলা দিয়ে পবিত্র দরবার শরীফ উনার যে কোন জড়বস্তুর কাছেও যদি কোন বিষয়ে কিংবা কোন সমস্যার কথা বলে যাওয়া হয় তাহলেও সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি সে বিষয়ের ফায়ছালা দান করেন এবং সমস্ত সমস্যা সমাধান হয়ে যায়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) কেননা, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হলেন মুস্তাজাবুদ দাওয়াত। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে চিনে, ছোহবত মুবারকে থেকে দায়িম-কায়িম, ইস্তেকামত থাকার তৌফিক আমাদেরকে দান করেন। (আমীন)<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<<

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৮

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৮

মুহাম্মদপুরে থাকে একটি পরিবার। সেই ব্যক্তির দুই ছেলে। ছোট ছেলের বয়স ১১/১২বছর। হঠাৎ একদিন ছোট ছেলের মুখ দিয়ে রক্ত পড়া  শুরু হল। এরপর থেকে কয়েকদিন পর পর মুখ দিয়ে রক্ত পড়তে থাকে। অনেক বড় বড় ডাক্তার দেখানো হলো, বিভিন্ন রকম টেস্ট করানো হলো। কিন্তু এর কারণ কেউ বের করতে পারলো না। পরে ছেলেটির বাবা-মা সিদ্ধান্ত নিলো, ছেলেটিকে নিয়ে ইন্ডিয়ায় যাবে চিকিৎসার জন্য। কাগজপত্র ঠিক করতে থাকে। এরমধ্যে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক পরামর্শে এক পীর বোন ছেলেটির বাবা-মাকে বললেন, আমাদের দরবার শরীফে প্রতিদিন মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ মাহফিল হয়। এই মহাসম্মানিত মাহফিলে কিছু হাদিয়া দেওয়ার নিয়ত করুন, অবশ্যই আপনার ছেলে সুস্থ হয়ে যাবে। (ইনশাআল্লাহ)
ছেলেটির বাবা বললেন, যদি ছেলেটি সুস্থ হয়, তাহলে ২০ হাজার টাকা দিবো। ঐ মহিলা তিনি কালোজিরা, তেল, পানি পড়িয়ে নিয়ে উনাদেরকে দিলেন এবং সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল  উমাম আলাইহাস সালাম উনার থেকে দোয়া মুবারক নিলেন। আর সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ উনার নিয়ত করার পর থেকে ঐ ছেলেটির মুখ দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ হয়ে যায়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। যদি বাবা-মা সহ ছেলেটি চিকিৎসার জন্য ইন্ডিয়ায় যেতেন তাহলে কমপক্ষে লক্ষ টাকার বেশী খরচ হতো। তারপর সুস্থ হতো কিনা, তার কোন নিশ্চয়তা ছিল না। মাত্র ২০ হাজার টাকা মহাসম্মানিত সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফে নিয়ত করার পর থেকেই ছেলেটি পরিপূর্ণ সুস্থ হয়ে গেল। 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল  উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের খাছ লক্ষ্যস্থল এবং মনোনীত ওলীআল্লাহ। তিনি সর্বাবস্থায় সকলের জন্য রহমত স্বরূপ। উনার মুবারক পরামর্শে এবং মুবারক দোয়ার বদৌলতে অসংখ্য অগণীত মানুষ সুস্থতা লাভ করেছে, ইতমিনান লাভ করেছে এবং অনন্তকাল ধরে করতেই থাকবে।  (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৭

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৭


কুমিল্লার একজন পীরবোন দরবার শরীফে আসার পূর্বে হাত পা প্রচন্ড জ্বালা করতো। অনেক ডাক্তার দেখানোর পর জন্ডিস ধরা পড়ে। তিনি অনেক ডাক্তার দেখিয়ে এলোপ্যাথি, হোমিওপ্যাথি সব ধরণের ঔষধ খেলেন। কোন পরিবর্তন হলো না। আগের মত হাত পা মাথা জ্বালাপোড়া রয়ে গেলো। এরপর তিনি দরবার শরীফে আসলেন। দরবার শরীফে এসে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি যেখানে বসে নছীহত মুবারক করেন, এবং নছীহত মুবারক শেষে যখন চলে যান তখন উনার নুরুদ দারাজাত মুবারক যে স্থানে রাখেন সেই সম্মানিত স্থান মুবারকে হাত রেখে মুখ মুছে নেন এবং দরবার শরীফে যে পড়া পানি ছিটানো হয় তা মুখে মুছেন। এরপর উক্ত পীরবোন খেয়াল করেন যে, কিছুদিনের মধ্যে তার হাত-পা, মাথা জ্বালা-পোড়া বন্ধ হয়। তারপর সেই পীরবোন বর্ণনা করেন, দরবার শরীফে আসার পূর্বে তিনি খুব রোগা ছিলেন, অসুস্থ ছিলেন কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে আসার পর তিনি সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হন এবং পরিপূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। তিনি বলেন, এ সবকিছুই মূলত সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসিলাতে তিনি পেয়েছেন।

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৬

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহ্হিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৬

এক পীর বোন উনার ক্লাসের পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে স্বপ্নে দেখেন যে, সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি কোন এক স্থানে তাশরীফ মুবারক এনেছেন (আগমন করেছেন)। তিনি উনাকে দেখতে পেয়ে খুবই আনন্দিত। উক্ত পীরবোন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে ক্বদমবুছী করে দুয়া মুবারক চাচ্ছেন যেন উনার ক্লাসের পরীক্ষার রেজাল্ট ভাল হয়। হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তখন উক্ত পীরবোনের মাথায় উনার পবিত্র নুরুল মাগফিরাত মুবারক (হস্তদ্বয়) রেখে জিজ্ঞাসা করেন, কি সবকিছু মনে পড়ছে? তখন উক্ত পীরবোন বললেন, ‘জ্বি অংক সাবজেক্টের কথা মনে পড়ে। আমার অংক পরীক্ষা  খুব খারাপ হয়েছে। আমি এটা নিয়ে খুব পেরেশানীতে আছি।’ উক্ত পীরবোন বারবার উনার নিকট দোয়া মুবারক চাচ্ছিলেন যেন, উনার অংক পরীক্ষার ফলাফল ভাল আসে। কারণ উনার অংক পরীক্ষা এতটাই খারাপ হয়েছিল যে, তিনি পরীক্ষা দিয়ে এসে হিসেব করে দেখেন উনার মার্ক ১২/১৩ আসবে। তাই তিনি খুবই চিন্তিত। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি পীরবোনকে আঞ্জুমানের কাজ, অর্থাৎ দ্বীনি তালীমের কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন। উক্ত স্থান থেকে বিদায় বেলা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীরবোনের কপালে চুম্বন করে দেন। এদিকে পীরবোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার স্বপ্নে দেওয়া নির্দেশ মুবারক মোতাবেক পরীক্ষার ফাঁকে ফাঁকে আঞ্জুমানের কাজ চালিয়ে যান। অপরদিকে উনার অংক পরীক্ষা যে এত খারাপ হয়েছে; এ বিষয়টি তিনি বাসার কাউকে জানান নি। শুধুমাত্র স্বপ্নে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানিয়েছেন। এর মধ্যে উক্ত পীরবোন ফলাফলের অপেক্ষা করতে থাকেন। পরে ফলাফল প্রকাশ হলে দেখা গেল, তিনি অংকে ৪০ এর উপরে নম্বর পেয়েছেন। যেখানে উনার ১২/১৩ নম্ব^র পাওয়ার কথা ছিল। উক্ত পীরবোন বলেন, এটা হওয়ার কথা ছিলনা। মূলত সাইয়্যিদাতুনা হযরত  উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক নির্দেশ পালন এবং খাছ দোয়া মুবারকের বদৌলতে সম্ভব হয়েছে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম !!) 
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার পক্ষ হতে নিয়ামতে উজমা মুবারক। কোন সালিক-সালিকা যখন কোন বিষয়ে সমস্যাগ্রস্ত হয় তখন তিনি স্বপ্নে ও জাগরণে সর্বাবস্থায় উক্ত সমস্যা সমাধান করে দেন, হিফাজত করেন এবং যা নেক মকছূদ রয়েছে তা পূরণ করেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন উনার সন্তুষ্টি মুতাবেক আমাদেরকে উনার ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৫

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৫

২০০৩ সালে রংপুর মাহিগঞ্জ সফরে একদিন হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি নছিহত মুবারক করছিলেন। তখন আব্দুল হালিম ভাই উনার বোন তিনি দুইজন নতুন মহিলা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। নছিহত মুবারক উনার সময় তিনি দেখতে পেলেন যে, আসমান থেকে একখানা নূর মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নূরুল ইলম (সিনা) মুবারক উনার উপর এসে পড়ছে আবার আসমানে উঠে যাচ্ছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তা’লীম মুবারক হয়েছে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি এই দৃশ্য দেখতে পেয়েছেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) তখন তিনি ভাবলেন উনার সাথে যে দুইজন মহিলা এসেছেন উনাদেরকে বলবেন কিন্তু তিনি পরে আবার ভাবলেন, তারা তো একেবারে নতুন যদি এরকম বলি তাহলে তারা যদি কোন কিছু মনে করে, এটা ভেবে তিনি আর কিছু বললেন না। তারপর উনারা যখন বাসায় ফিরে যাচ্ছিলেন তখন রিকসায় বসে একজন মহিলা উনাকে বলেছেন, তুমি কি দেখেছ যে, আসমান থেকে একখানা নূর মুবারক বারেবারে উনার নূরুল ইলম (সিনা) মুবারক উনার উপর এসে পড়ছে আবার আসমানে উঠে যাচ্ছে। তখন আব্দুল হালিম ভাই উনার বোন বললেন হ্যাঁ, আমিও এ বিষয়টি লক্ষ্য করেছি। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,
نُوْرُهُمْ يَسْعٰى بَيْنَ اَيْدِيْهِمْ وَ بِاَيْمَانِهُمْ يَقُوْلُوْنَ رَبَّنَا اَتْمِمْ لَنَا نُوْرَنَا وَاَغْفِرْلَنَا اِنَّكَ عَلٰى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ
অর্থ মুবারক: উনাদের নূর মুবারক উনাদের সামনে এবং ডানে ছুটাছুটি করবে। উনারা বলবেন, (আয় আল্লাহ পাক!) আমাদের জন্য আমাদের নূর পূর্ণ করে দিন। এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন। নিশ্চয়ই আপনি সমস্ত কিছুর উপর ক্ষমতাবান।” (সম্মানিত ও মহাপবিত্র সূরা তাহরীম শরীফ, সম্মানিত ও মহাপবিত্র আয়াত শরীফ -৮)
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম সেই মহান ও সম্মানিত মাক্বাম মুবারক উনার অধিকারিনী মুহসিনীন তথা খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাক্বীক্বীভাবে চিনে, ছোহবত মুবারকে থেকে হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৪

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৪

সিলেটের এক পীর বোন এবং উনার আহাল উনারা একবার চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার জন্য প্লেনের টিকেট বুক করেন। যেদিন উনাদের ফ্লাইট ছিল সেদিন উনারা ফ্লাইটের ঠিক ৩০ মিনিট পূর্বে বাসা থেকে বের হন কারণ বাসা থেকে এয়ারপোর্টের দূরত্ব ছিল ৩০ মিনিটের। সাধারণত যে রাস্তা দিয়ে উনারা আসা যাওয়া করতেন, সেই রাস্তাটি মেরামত করা হচ্ছিল যার কারণে রাস্তা কাটা ছিল। তাই সমস্ত যানবাহন একই রাস্তা দিয়ে আসা যাওয়া করছিল। সাধারণত চট্টগ্রাম বন্দর নগরীর রাস্তায় সবসময় অনেক ট্রাক থাকার কারণে জ্যাম লেগে থাকে। রাস্তায় বের হওয়ার পর উনারা প্রচুর জ্যাম দেখতে পান। জ্যামের কারণে ফ্লাইট মিস করেন কিনা এটা ভেবে খুব চিন্তিত হয়ে যান এবং উনার আহাল বাসায় ফিরে যাওয়ার কথা বলেন কারণ ফ্লাইট ছাড়ার সময় হয়ে গিয়েছিল, যেয়েও কোন লাভ হবে না। উনাদের হাতে শুধুমাত্র ৫ মিনিট সময় বাকি ছিল। আর রাস্তায় এমন জ্যাম ছিল যে ৫মিনিটে পৌঁছানো কখনোই সম্ভব ছিল না। উপায়ান্তর না পেয়ে উক্ত পীরবোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে স্মরণ করতে থাকেন। উনাকে স্মরণ করা অবস্থায় হঠাৎ জ্যাম ছেড়ে দেয়। এর কিছুক্ষন পর উনারা এয়ারপোর্টে যেয়ে পৌঁছেন যা ছিল পরিপূর্ণভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার গায়েবী মদদ মুবারক। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) উনারা এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেখেন কোন এক কারণে ফ্লাইট তখন ও ছাড়ে নি। ১৫মিনিট পর ছাড়বে। সাধারণত ফ্লাইট যথাসময়ই ছাড়ে সময় আগে পরে হয় না। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে স্মরণ করার মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার কারণে কুদরতী ফায়সালা মুবারক হয়ে যায়।(সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
 মূলত, ওলীআল্লাহ গণ উনাদের উসিলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত অসম্ভব বিষয়গুলিকেও সম্ভব করে দেন। কেননা উনারা হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং মহান আল্লাহ পাক উনার বন্ধু। উনারা যা চান মহান আল্লাহ পাক তিনি তাই দান করেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনিও মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত এবং হাবীব নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযুর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার খাছ আওলাদ। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন হাক্বীক্বীভাবে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার হাক্বীক্বী হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৩

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪৩


সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি প্রতি জুমুয়া শরীফে পবিত্র কুরআন শরীফ থেকে তাফসীর মুবারক করে থাকেন। যা কিনা সর্বস্তরের মানুষের জন্যই অনন্য নছিহত মুবারক। মহিলাদের মধ্যে যারা প্রতি জুমুয়া শরীফে আসেন উনারা বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারেন। কিছুদিন আগে জুমুয়াহ শরীফে তা’লীম মুবারক উনার সময় কুড়িগ্রাম হতে আগত এক পীরবোন তিনি সরাসরি দেখছিলেন যে, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল আলাইহাস সালাম উনার তিন দিক থেকে অর্থাৎ ডান, বাম ও পিছন দিক থেকে ছোট সাদা ফুল কলি হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নূরুল মুজাসসাম (জিসিম) মুবারক উনার উপর পড়ছে। সেগুলো পরে ফুলের তোড়ার মত হয়ে যাচ্ছে আর মনে হচ্ছে হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সেই ফুলের তোড়ার মাঝখানে বসে আছেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) ঠিক তখন উক্ত পীরবোন চিন্তা করলেন এগুলো আসলে কী? তখন কিছু একটা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানিত কাঁধ মুবারক উনার উপর উঠানো হল। তিনি দেখলেন একটা বড় কাঠির সাথে একটা ছোট কাঠি লাগানো। আর সেগুলোই সাদা ফুলের কলির মত দেখা যাচ্ছে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইাস সালাম)
আর মহান আল্লাহ পাক তিনি কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ رَحْمَةَ اللهِ قَرِيْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِيْنَ
অর্থ মুবারক: “নিশ্চয়ই ওলীআল্লাহগণ উনাদের নিকটই রহমত মুবারক রয়েছেন।”
 মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনাদের নিকটে সর্বদাই খাছ রহমত মুবারক বর্ষিত হতে থাকে, যা কখনো পানির ফোটার মত, কখনো মুক্তা দানার মত, কখনো ফুলের কলির মত বিভিন্ন ভাবে বর্ষিত হয়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইাস সালাম)

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪২

কারামতে হযরত মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪২

রংপুরের একজন পীরবোন উনার মেয়ের কিডনির ছাকনীতে ইনফেকশন হয়েছিল। অনেক চিকিৎসা করেও কিছু হয়নি। শরীর ফুলে অন্যরকম হয়ে গিয়েছিল। ডাক্তাররা বলেছিল, ইন্ডিয়ার চেন্নাইতে নিতে হবে। তখন উক্ত পীরবোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে দোয়া মুবারক চাইলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, তাকে এখানে আনা যায় না? তখন উক্ত পীরবোন উনার মেয়েকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে নিয়ে আসলেন। ছোহবত মুবারকে আসার পর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ফুঁ মুবারক দেন, দোয়া মুবারক করেন এবং তেল, পানি, কালোজিরা ব্যবহার করতে বলেন। এ সমস্ত কিছু ব্যবহারের ফলে এবং ছোহবত মুবারক ইখতিয়ার করার মাধ্যমে আস্তে আস্তে উক্ত পীরবোনের মেয়েটি সুস্থ হয়ে যায়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মহানতম নিয়ামত মুবারক। উনার মুবারক উসিলায় এবং সুমহান সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত কঠিন অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দান করেন। পৃথিবীর যে কোন ডাক্তারের পক্ষে যা কিনা অসম্ভব।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে এসে নুরুদ দারাজাত (ক্বদম) মুবারকে আবাদুল আবাদের ত্বরে কবুল করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪১

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪১

এক ছাত্রীর খালার বেবী হওয়ার একমাস আগে উনার চেক আপ করার পর বেবীর ওজন অনেক কম ছিল এবং  মায়েরও কিছু সমস্যা ধরা পরে। যার কারণে ডাক্তার ইমারজেন্সি সিজারের কথা বলে। এরপর উক্ত পীরবোন আল-মুতমাইন্নাহ মা ও শিশু হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু রোগীর আহালের ইচ্ছা ছিল কয়েকদিনে বাচ্চার ওজন যেন বাড়ে এবং ওজন বাড়ার পর সিজার হয়। এদিকে তাদের আরেকটি ইচ্ছা ছিল কোন বিশেষ দিনে যেন বেবী সিজার হয়। এজন্য উক্ত পীরবোনের ভাগ্নি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার উসিলা দিয়ে দোয়া করতে থাকে। হাসপাতালে এডমিট হওয়ার কয়েকদিন পর ২০শে জুমাদাল উখরা শরীফ রোগীর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গিয়ে খুব খারাপ অবস্থা দেখা দেয়। ডাক্তারকে জানানো হলে ডাক্তার বলে যে, আজকে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যেই সিজার করতে হবে। কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে রাত ৯টার পর সিজার করা হয়। সিজার করার পূর্বে উনারা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে দোয়া মুবারক চান, যেন মা সুস্থ থাকে এবং শিশুর ওজনও ঠিক থাকে। সিজারের পর দেখা গেল বেবীর ওজন ৩ কেজি ৭০০ গ্রাম। যেখানে সিজারের পূর্বে ওজন ছিল ২ কেজি ৬৬৬ গ্রাম। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। আর রাতটা ছিল ২১শে জুমাদাল উখরা শরীফ, বিশেষ আইয়্যামুল্লাহ শরীফ। রোগীর প্রেগনেন্সির শেষের দিকে সুগার বেড়ে যাওয়ায় বেবী হওয়ার পর দেখা গেল বেবীর সুগার অনেক কম। বেবীকে বাঁচাতে হলে স্যালাইনের মাধ্যমে সুগার দিতে হবে। বেবীকে স্যালাইন দেওয়া হলে, ডাক্তাররা বলেছিল ২দিন স্যালাইন দিতে হবে। ১দিন পার হওয়ার পর ২য় দিন ক্যানোলা সরে যাওয়ার কারণে স্যালাইন যাচ্ছিল না। এদিকে সুগার মেপে অনেক কম পাওয়ার কারণে ডাক্তাররা ভয় পাচ্ছিল। ডাক্তাররা বলেছিল ঘ.ও.ঈ.ট তে নিতে হবে। এদিকে বেবীর খালা সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে দোয়া মুবারক চান। এবং বেবীর খালাতো বোন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার শান মুবারকে দরূদ শরীফ পাঠ করতে থাকেন। ডাক্তাররা পুনরায় যখন সুগার মাপেন তখন দেখেন সুগার অনেকটাই ঠিক হয়ে এসেছে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। অথচ একটু আগেও সুগার অনেক কম ছিল এবং বাচ্চাকে স্যালাইনও দেওয়া হয়নি। শুধুমাত্র সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার দোয়া মুবারকের কারণেই সুগার লেবেল স্বাভাবিক হয়েছে।
     মূলত, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক উনার মনোনীত খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ। উনার মুবারক উসিলা দিয়ে যখন যে দোয়া মুবারক চাওয়া হয় মহান আল্লাহ পাক তিনি, উনার সম্মানার্থে অবশ্যই সেই দোয়াসমূহ কবুল করে থাকেন। কারণ তিনি মুস্তাজাবুদ দাওয়াত।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নুরুদ দারাজাত (ক্বদম) মুবারকে আমাদের সকলকে সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক নিয়ে দায়িম-ক্বায়িম, ইস্তেকামত থাকার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪০

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৪০

 ফেনীর একজন পীরবোন একবার ভাবছিলেন শায়েখ আলাইহিস সালাম উনারা তো সর্বদা হুযূরীর সাথে ইবাদত বন্দেগী করার কথা বলেন। তাই এটা উনাদের নির্দেশ মুবারক। তাহলে তো নামাজের সময়ও হুযূরীর সাথে থাকতে হবে। হুযূরীবিহীন নামাজ আদায় করলে তো সেটা কবুল হবে না। তাই তিনি ভাবছিলেন কিভাবে হুযূরীর সাথে নামাজ আদায় করা যায়? এটা উনার মনের মধ্যে প্রশ্ন ছিল কিন্তু তিনি বিষয়টি কারো থেকে জিজ্ঞাসা করেননি। পরেরদিন তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সোহবত মুবারক আদায়ের লক্ষ্যে পবিত্র দরবার শরীফে আসেন। এসে তিনি খুবই আশ্চর্য হয়ে যান যে, সেইদিন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি হুযূরীর সাথে কিভাবে নামাজ আদায় করা যাবে সেই বিষয়ে সম্মানিত নছীহত মুবারক করছেন এবং কী কী ভুল-ত্রুটি থাকার কারণে নামাজ কবুল হয়না সেই বিষয়েও সম্মানিত নছীহত মুবারক করছেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার আলোচনা মুবারক থেকেই উক্ত পীরবোন উনার প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যান উনাকে আলাদা করে কোন প্রশ্ন করতে হয়নি। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা ইলমে গইব উনার অধিকারী, অন্তরের অন্তস্থলের খবর উনারা জানেন। ঠিক তদ্রুপ ওলী আল্লাহগণ উনারাও ইলমে গইব জানেন এবং অন্তরের খবর রাখেন। তেমনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি মহান আল্লাহ পাক প্রদত্ত ইলমে গইব উনার অধিকারী। যার কারণে প্রশ্ন না করা সত্বেও তিনি উক্ত প্রশ্নের জবাব পরিপূর্ণভাবে দান করেছেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৯

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৯

শান্তিবাগের একজন পীরবোন উনার স্বাভাবিক মাজুরতার দুই তিন দিন পূর্ব থেকেই প্রচন্ড মাথা ব্যথা শুরু হত। এত ব্যথা হত যে ঔষধ খাওয়ার পরও কমতো না। এ ভাবে দুই থেকে তিনদিন উনাকে প্রচন্ড ব্যথা সহ্য করতে হত। তখন তিনি বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানান। উনার উক্ত সমস্যার কথা শুনে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ফুঁ মুবারক দিয়ে বলেন, “মহান আল্লাহ পাক তিনি হিফাযত করবেন।” এর কয়েকদিনের মধ্যেই তিনি একটি মুবারক স্বপ্ন দেখেন। উক্ত পীরবোন স্বপ্নে দেখেন, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম  তিনি উক্ত পীরবোনকে সম্মোধন করে বলছেন, তোমার না প্রচন্ড মাথা ব্যথা? সেই পীরবোন তিনি বললেন, “জ্বী আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম!” অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, “শুন! তুমি আমার কাছে আস।” তখন উক্ত পীরবোন তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার একেবারে সামনে গেলেন। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, “তুমি আমার চোখের দিকে তাকাও।” উক্ত পীরবোন তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার চোখ মুবারকদ্বয় উনাদের দিকে তাকিয়ে দেখতে পেলেন, আকাশে বিজলী চমকালে যেরূপ আলোকরশ্মি দেখা যায় ঠিক তদ্রুপ আলোকরশ্মি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার চোখদ্বয় মুবারক থেকে সেই পীরবোনের মাথার দিকে আসছে। উক্ত পীরবোন তিনি বর্ণনা করার সময় বলেন, উক্ত আলোকচ্ছটা দেখতে অনেকটা বিজলীর আলোকরশ্মির মত কিন্তু আসলে তা কিরূপ ছিল তা হুবহু বর্ণনা করা উনার পক্ষে সম্ভব নয়। এই আলোকরশ্মি কিছু সময় উনার মাথার মধ্যে স্থায়ী ছিল। এরপর পরই উক্ত পীরবোন উনার ঘুম ভেঙ্গে যায়। এই সম্মানিত স্বপ্ন মুবারক দেখার পর থেকে সেই পীরবোন উনার আর কখনোই সেরকম মাথা ব্যথা হয়নি। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে মহান নিয়ামত হিসেবে প্রেরণ করে কায়িনাতবাসীকে ধন্য করেছেন। সালিকাগণ যেকোন সমস্যায় পড়ে উনার নিকট দোয়া মুবারক চাওয়ার পর তিনি স্বপ্ন এবং জাগরণ অর্থাৎ সর্বাবস্থায় সে সমস্যার সমাধান করে দেন এবং অসুস্থ হলে শিফা দান করেন। আমরা যেন এ সুমহান নিয়ামত মুবারক উনার সর্বাবস্থায় শুকরিয়া আদায় করতে পারি। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৮

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৮

একজন পীরবোন একবার দরবার শরীফ থেকে অডিও-ভিডিও কিছু ক্বাছিদা শরীফ মোবাইলে নেন। এর মধ্যে একটি সম্মানিত ক্বাছিদা শরীফ ছিল সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শান মুবারকে। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পবিত্র শান মুবারকের উক্ত ক্বাছিদা খানা উক্ত পীরবোনের খুব পছন্দ ছিল। হঠাৎ একদিন তিনি লক্ষ্য করেন উনার মোবাইল থেকে সমস্ত ক্বাছিদা ডিলেট হয়ে গিয়েছে। এ অবস্থায় পীরবোনটি মনে খুব কষ্ট পান যা ভাষায় বর্ণনা করার মত না। তিনি কষ্ট পেয়েই উক্ত বিষয়টি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানান। যে দিন উনাকে জানানো হয় তার পরদিন উক্ত পীরবোন ঘুম থেকে উঠে মোবাইলটি অফ করে পুনরায় অন করার পর দেখতে পান সমস্ত ক্বাছিদা শরীফগুলো আগের মতই রয়ে গিয়েছে। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)। উক্ত পীরবোন তিনি বলেন, আমার জানা মতে মোবাইল থেকে কোন কিছু ডিলেট বা ফরমেট হয়ে গেলে তা পুনরায় আবার কখনোই ফিরে আসে না এবং আজ পর্যন্ত ফিরে আসেনি।  সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সম্মানার্থে উনার দোয়া মুবারক উনার বদৌলতে তিনি ক্বাছিদা শরীফগুলো পুনরায় ফিরে পেয়েছেন।
ওলী আল্লাহগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের হাক্বিক্বী ক্বায়িম-মাক্বাম। মহান আল্লাহ পাক তিনি এবং উনার হাবীব সাইয়্যিদুল মুরসালিন, ইমামুল মুরসালিন, খাতামুন নাবিয়্যিন, নূরে মুজাস্সাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা যেকোন সময় যেকোন অবস্থাতে যেকোন কিছু করতে পারেন,  তেমনি ওলীঅল্লাহগণ উনারাও খাছ রহমত মুবারক উনার কারণে সবকিছুই করতে পারেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)।
মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন আমাদেরকে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার হাক্বিক্বী হক্ব আদায় করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৭

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৭

                   
একবার এক ছাত্রী ক্লাসে ব্ল্যাকবোর্ড আনতে যায়। যখনই ব্ল্যাকবোর্ড টান দেয় ব্ল্যাকবোর্ডটি তার পায়ের উপর উঠে যায় এবং পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলির নখ অর্ধেকের বেশী ফেটে প্রায় আলাদা হয়ে যায়। সেই ছাত্রীর পায়ের নখ থেকে এতপরিমানে রক্ত ঝরছিল যে যতটুকু স্থান সে হেঁটেছে তা সম্পূর্ণ রক্তে রঞ্জিত হয়ে যায়। এ অবস্থা দেখে সবাই তাকে হসপিটালে নেওয়ার জন্য পিড়াপিড়ি করতে থাকে। তখন উক্ত ছাত্রী বলে, “আমি তো হাঁটতেই পারছি না তার উপর ডাক্তারের কাছে গেলে কাটা জায়গা সেলাই দিবে, ঔষধ খেতে হবে, তারপরও কখন যে ভাল হবে তার কোন গ্যারান্টি নেই। এরচেয়ে ভাল হবে আমি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে হাদিয়া দিয়ে উনার থেকে দোয়া মুবারক নেই, তাহলে আরও তাড়াতাড়ি ভাল হয়ে যাবে।” অতঃপর সে সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার কাছে যায় এবং দোয়া মুবারক চায়। তখন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত স্থানটি দেখতে চান, উনাকে দেখানোর পর তিনি দেখে “উফ” শব্দ মুবারক উচ্চারণ করেন এবং ফুঁ মুবারক দিয়ে দেন। যেখানে সকলেই বলছিল নখটি সম্পূর্ণ পড়ে যাবে কারণ নখটি প্রথমে নীল অতঃপর কালো বর্ণ ধারণ করেছিল এবং ব্যথার কারণে পা ফেলা যাচ্ছিল না, সেখানে তাৎক্ষনিক ব্যথা কমে যায় এবং দু-একদিনের মধ্যেই নখটি সম্পূর্ণ জোড়া লেগে ভাল হয়ে যায়। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)
মহান আল্লাহ পাক উনার ওলীগণ উনারা মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ রহমত মুবারক, মহান নিয়ামত মুবারক। ওলীআল্লাহগণ উনাদের মুবারক উছিলায় অসম্ভব বিষয়সমূহও সম্ভব হয়ে যায়। তেমনি মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ হলেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। উনার মুবারক উছিলায় মহান আল্লাহ পাক তিনি সমস্ত প্রকার কষ্ট লাঘব করেন এবং সুস্থতা দান করেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম)

কারামতে মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৬

কারামতে মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৬

বাসা শিফট করার সময় এক পীর বোন ভারী জিনিসপত্র গুছাতে গিয়ে হাতে খুব আঘাত পেলেন। ব্যথা লাগল হাতের শোল্ডার জয়েন্টে। ব্যথা পাওয়ার সময় ভিতরে একটা মটমট শব্দ হল। তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। সাথে সাথে শায়েখ আলাইহিস সালাম উনার ফুঁ মুবারক দেয়া পড়া তেল আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে মালিশ করলেন। দুই দিন পর্যন্ত কিছুই হল না। এরপরেই অনুভূত হল প্রচন্ড ব্যথা। ব্যথার কারণে হাত ঠিকমত নাড়াচাড়া করাও সম্ভব হচ্ছে না। ব্যথার কথা উম্মুল উমাম আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনাকে জানানো হলে তিনি বলেন, বেশি বেশি পড়া তেল মালিশ করার জন্য। তিনি পড়া তেল লাগাতে থাকলেন। যখন পড়া তেল লাগানো হত তখন ব্যথা ভাল হয়ে যেত। কিন্তু উক্ত পীর বোন কর্মব্যস্ততা, কিংবা গাফেলতীর কারণে পড়া তেল ঠিকমত লাগাতেন না। ফলে উনার ব্যথা দিন দিন বেড়েই চলল। দেড় মাস পেরিয়ে গেলেও ব্যথা ভাল হচ্ছিল না। তাই উনার বাবা উনাকে ডাক্তারের কাছে পাঠালেন। ডাক্তার কিছু ব্যথার ঔষধ দিল এবং বলল যে, “ব্যথা ভাল না হলে অবশ্যই এক্স-রে করতে হবে। ডাক্তার হাত নাড়িয়ে বলল, সম্ভবত জয়েন্ট ডিস্প্লেস হয়েছে।”  এদিকে ঔষধ সেবনও শেষ; কিন্তু ব্যথা ভাল হচ্ছে না। পীর বোন তিনি সরাসরি আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম উনার কাছে যান এবং পড়া তেল লাগানোর ক্ষেত্রে উনার গাফেলতীর কথা জানান। সেই সাথে ব্যথা ভাল না হওয়ার বিষয়টিও জানান। তখন সাইয়্যিদাতুনা আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীর বোনকে আঘাতপ্রাপ্ত স্থানে পড়া তেল লাগিয়ে ব্যায়াম করার নির্দেশ দেন। তিনি দেখিয়ে দেন কিভাবে ব্যায়ামটা করতে হবে। ব্যায়ামটা নিজে করা সম্ভব নয়। আরেকজনকে করিয়ে দিতে হবে। সেই সময় তিনি উক্ত পীর বোনকে সন্তানের ন্যায় কাছে ডেকে অত্যন্ত আদর-মুহাব্বতের সাথে উনার মুবারক নুরুল মাগফিরাত (হাত মুবারক) দ্বারা ব্যায়াম করিয়ে দেন এবং পীর বোনকে দেখানো নিয়মে ব্যায়াম করতে বলেন। তখন উক্ত পীর বোন এত বেশি খুশি হলেন যে, তিনি বললেন, “ইয়া আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম! আপনার হাত মুবারক উনাদের স্পর্শ পেয়ে আমার হাত আল্লাহ পাক আজকেই ইনশাআল্লাহ ভাল করে দিবেন। আমার যেন ব্যায়াম করারও প্রয়োজন না হয়।”
আশ্চর্যের বিষয় এই যে, উক্ত পীর বোনের মনে হল ব্যথা যেন গায়েব!! ১০-১৫ মিনিটের মধ্যে ব্যথা একেবারেই নেই বললেই চলে। যেহেতু, আম্মাজী ক্বিবলা আলাইহাস সালাম তিনি ব্যায়াম করতে বলেছেন; তাই উক্ত পীর বোন বাসায় ফিরে সেই রাতে মাত্র একবার ব্যায়ামটি করেন। যদিও ব্যথা বিকেল থেকেই নেই। পরবর্তী সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরে তিনি বুঝতে পারলেন যে, হাতের ব্যথা আর নেই। সম্পূর্ন ভাল হয়ে গিয়েছে। আর ব্যায়ামেরও প্রয়োজন হয়নি। উনার নুরুল মাগফিরাত উনার পরশ পেয়ে হাতের ব্যথা থেকে সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করেন। সুবহানাল্লাহ!

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৫

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৫

একবার গোড়ানের এক পীরবোনের হাত অবশ হয়ে যায়। ওযূ করতে গিয়ে দেখেন পানি উঠাতে পারছেন না। এরপর তিনি সাথে সাথেই দরবার শরীফে আসেন। এসে দেখেন দরবার শরীফে মাহফিল চলছে। তিনি এসে মজলিসে দাঁড়ানোর ডিউটি করেন। কিছূক্ষণ পর তিনি খেয়াল করেন, উনার অর্ধেক শরীর অবশ হয়ে যাচ্ছে। সেই অবস্থায়ই তিনি ডিউটি করেন। মজলিস শেষে পবিত্র মুনাজাত শরীফের পর, সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পুত-পবিত্র ক্বদম মুবারকে হাজির হলেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি দেখেই জিজ্ঞাসা  করলেন, হাতে কোন সমস্যা কিনা?  তখন উক্ত পীরবোন উনার উক্ত সমস্যার কথা জানালেন। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন, “আপনি এখনই প্রেশার মাপান। হাই প্রেশারের কারণে তো আপনি স্ট্রোক করে ফেলেছেন। আপনি সিঁড়ি দিয়ে কিভাবে উঠে আসলেন?” তিনি ক্বদম মুবারকে জানালেন, আপনার দয়া দান ইহসান মুবারক উনার বদৌলতে সম্ভব হয়েছে। অতঃপর সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ফুঁ মুবারক দিলেন এবং বললেন, “আপনি আপনার হাতে পড়া তেল মাখতে থাকুন।” সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি ফুঁ মুবারক দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি সম্পূর্ণ সুস্থতা লাভ করলেন। (সুবহানা উম্মিল উমাম আলাইহাস সালাম) অতঃপর মুবারক ফরমান অনুযায়ী তিনি হসপিটালে গেলেন এবং প্রেশার মাপার পর তারা জানালো তিনি স্ট্রোক করেছিলেন। যা তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বদৌলতে পূর্ব থেকেই জানতেন। এমনকি তিনি ততক্ষণে সুস্থতাও লাভ করেছেন।
মহান আল্লাহ পাক উনার আখাছুল খাছ ওলীআল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার সুমহান সম্মানার্থে কুল কায়িনাতবাসী সকলকে  সমস্ত কঠিন রোগ থেকে সুস্থতা দান করেন, হিফাযত করেন এবং পরিপূর্ণ নিয়ামত মুবারক দান করে থাকেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদেরকে সেই নিয়ামত মুবারক হাছিল করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)
-মুহম্মদিয়া জামিয়া শরীফ (বালিকা মাদরাসা)।
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনারা ঈমান, আমল এবং নাজাতের মূল
رضوان من الله اكبر
অর্থ: খ¦ালিক মালিক রব মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক সবচেয়ে বড়। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৭২)
অর্থাৎ মাখলূক্বাতের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক উনার সন্তুষ্টি মুবারক। সন্তুষ্টি মুবারক যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, সেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক করেন-
والذين امنوا اشد حبا لله
অর্থ: ঈমানদারগণ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করেন (পবিত্র সূরা বাক্বারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ১৬৫)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করাই হচ্ছে ঈমানদার উনাদের পরিচয়। এখন বান্দা তো সরাসরি মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে জানতে পারবে না। আর যেহেতু মহান আল্লাহ পাক উনার সম্পর্কে জানতে পারবে না, সেহেতু সর্বাধিক মুহব্বতও করতে পারবে না। আর এজন্যই মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
والله ورسوله احق ان يرضوه ان كانوا مؤمنين.
অর্থ: যদি তারা মু’মিন হয়ে থাকে, তাহলে তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক  উনাকে এবং নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরকে সন্তুষ্ট করা, কেননা উনারাই সন্তুষ্টি প্রাপ্তির সর্বাধিক হক্বদার। (পবিত্র সূরা তওবা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬২)
অর্থাৎ, মু’মিন হতে হলে শুধু মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতই যথেষ্ট নয়। নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি উনাকেও মুহব্বত করতে হবে। অন্য কথায়, ঈমানদার হতে হলে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত মুবারক অন্যতম শর্ত। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
النبى اولى بالـمؤمنين من انفسهم
অর্থ: নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি মু’মিনগণ উনাদের নিকট সর্বাধিক প্রিয়। (পবিত্র সূরা আহযাব শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৬)
অর্থাৎ ঈমানদারগণ উনাদের পরিচয় হচ্ছে, উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সমস্ত কিছুর চেয়ে বেশি মুহব্বত করবেন। আর এ বিষয়টি আরো সুস্পষ্ট করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত রয়েছে-
عن حضرت انس رضى الله تعالى عنه ان رسول الله صلى الله عليه و سلم قال لا يؤمن احدكم حتى اكون احب اليه من والده وولده والناس اجمعين
অর্থ: হযরত আনাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, আমাকে নিজের পিতা-মাতা, সন্তান এবং সমস্ত মানুষ হতে অধিক মুহব্বত না করা পর্যন্ত তোমাদের কেউই কস্মিনকালেও ঈমানদার হতে পারবে না। (বুখারী শরীফ)
অর্থাৎ, মু’মিন হতে হলে মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করতে হবে। আর মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহব্বত করতে হলে আগে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। এখন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে মুহব্বত করতে হলে উনার মহাসম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করতে হবে। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قل لا اسئلكم عليه اجرا الا الـمودة فى القربى.
অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি মাখলূক্বাতকে বলে দিন, তোমাদের কাছে কোন কিছুরই প্রতিদান বা বিনিময় চাওয়া হচ্ছে না। প্রতিদান বা বিনিময় দেয়া তোমাদের পক্ষে সম্ভবও নয়। প্রতিদান বা বিনিময় দেয়ার ইচ্ছা করাও তোমাদের জন্য কুফরী স্বরূপ। তবে তোমাদের  দায়িত্ব কর্তব্য হলো আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা এবং সদাচরণ করা। (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ২৩)
অর্থাৎ হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করার বিষয়টি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার হক্ব মুবারক উনার সাথে সম্পৃক্ত ও সংশ্লিষ্ট। যা আরো সুস্পষ্ট করে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت على عليه السلام قال خرج رسول الله صلى الله عليه وسلم مغضبا حتى استوى على المنبر فحمد الله واثنى عليه قال ما بال الرجال يؤذوننى فى اهلى والذى نفسى بيده لا يؤمن عبد حتى يحبنى ولا يحبنى حتى يحب ذوى.
অর্থ: হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি অত্যন্ত জালালী শান মুবারকে হুজরা শরীফ থেকে মসজিদে নববী শরীফে তাশরীফ মুবারক রাখেন। অতঃপর, তিনি মিম্বর শরীফে আরোহন করে মহান আল্লাহ পাক উনার হামদ শরীফ ও ছানা শরীফ পাঠ করত  ইরশাদ মুবারক করেন, লোকদের কি হলো? আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ব্যাপারে তারা আমাকে কষ্ট দেয়। মহান আল্লাহ পাক উনার শপথ! আমাকে মুহব্বত করা ব্যতীত কেউই মু’মিন হতে পারবে না। আর আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে মুহব্বত করা ব্যতীত কেউই আমাকে মুহব্বত করতে পারবে না। (সুবুলুল হুদা ওয়ার রশাদ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت ابن عباس رضى الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم لو أن رجلا صف بين الركن والمقام، فصلى وصام، ثم لقي الله عزّوجل وهو مبغض لأهل بيت محمّد صلى الله عليه وسلم دخل النار
অর্থ: হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, পবিত্র কা’বা শরীফ ও পবিত্র মাক্বামে ইবরাহিম উনাদের মাঝামাঝি অবস্থান করত নামায-রোযা আদায় করতে করতে কেউ যদি মারা যায়। কিন্তু হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, তাহলে সে জাহান্নামী হবে। (বুখারী শরীফ)
অন্য পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে আরো ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ حضرت أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ رضى الله تعالى عنه قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ أَبْغَضَنَا أَهْلَ الْبَيْتِ فَهُوَ مُنَافِقٌ
অর্থ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যে ব্যক্তি আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, সে মুনাফিক। (ফাদ্বায়িলুস সাহাবা)
অর্থাৎ, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বতই সমস্ত কিছুর মূল। উনাদের মুহব্বতের মাধ্যমেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুহব্বত সম্পন্ন হবে। এবং চূড়ান্তভাবে মহান আল্লাহ পাক উনার মুহব্বতও সম্পন্ন হবে। এমনকি উনাদের মুহব্বত ব্যতিত কারো কোন আমলও কবুল হয়না। উপরন্তু উনাদেরকে যারা মুহব্বত করবেনা, তারা মুনাফিক হিসেবে পরিগণিত হবে।
এখন মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে কিভাবে? হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে বান্দা মুহব্বত করলে, তার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে উনাদেরকে অনুসরণের মাধ্যমে। কারণ মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
قل ان كنتم تحبون الله فاتبعونى يحببكم الله
অর্থ: হে হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আপনি উম্মতদেরকে বলেন দিন! যদি তোমরা মহান আল্লাহ পাক উনাকে মুহ্ববত করে থাকো, তাহলে তোমরা আমাকে অনুসরণ করো। তাহলে মহান আল্লাহ পাক তিনি তোমাদেরকে মুহব্বত করবেন। (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৩১)
অর্থাৎ মহান আল্লাহ পাক উনার এবং নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের প্রতি মুহব্বত উনার বহিঃপ্রকাশ ঘটবে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ইতায়াত বা অনুসরণ করার মাধ্যমে। কেননা, পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن ام الـمؤمنين حضرت عائشة عليها السلام من احب شيئا اكثر ذكره.
অর্থ: উম্মুল মু’মিনীন হযরত ছিদ্দীক্বা আলাইহাস সালাম উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, মানুষ যাকে মুহব্বত করে উনার স্মরণও বেশি করে থাকে। (মাক্বাছিদুল হাসানাহ)
অর্থাৎ মুহব্বতের বহিঃপ্রকাশ ঘটে স্মরণের মাধ্যমে। আর এ কথা সুস্পষ্ট যে, মানুষ যাকে বেশি স্মরণ করে উনাকে অনুসরণও বেশি করে থাকে। আর এজন্যই পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عن حضرت جابر بن عبد الله رضى الله تعالى عنه قال رأيت رسول الله صلى الله عليه و سلم فى حجته يوم عرفة وهو على ناقته القصواء يخطب فسمعته يقول يا أيها الناس انى قد تركت فيكم ما ان اخذتم به لن تضلوا كتاب الله وعترتى اهل بيتى.
অর্থ: হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, বিদায় হজ্জে আরাফার দিন ক্বাসওয়া নামক উটে আরোহিত অবস্থায় খুতবা মুবারক প্রদানকালে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাকে আমি ইরশাদ মুবারক করতে শুনেছি যে, তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, হে মানুষেরা! আমি তোমাদের নিকট রেখে যাচ্ছি দুটি নিয়ামত। যতদিন তা আঁকড়ে থাকবে বা ধরবে, ততদিন তোমরা কখনো গোমরাহ হবে না। কিতাবুল্লাহ উনাকে এবং আমার হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে। (তিরমিযী শরীফ)
অর্থাৎ, কিতাবুল্লাহ পবিত্র কুরআন শরীফ এবং হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের অনুসরণই হিদায়েতের পথ। উনাদের ইতায়াত হতে বিচ্যুত হলে কেউই হিদায়েতের উপর দৃঢ়চিত্ত থাকতে পারবে না। সূক্ষ্মভাবে ফিকির করলে দেখা যায় কেবল হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইতায়াতের মাধ্যমে সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত পূর্ণাঙ্গরুপে পালিত হয়। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইতায়াত ব্যতিত অন্য কোন পন্থায় সম্মানিত ইসলামী শরীয়ত পূর্ণাঙ্গরুপে পালিত হয়না। কেউ যদি হানাফী মাযহাব অনুসরন করে, সে প্রকৃতপক্ষে ইমামুল খমিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইমামুস সাদিস মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই ইতায়াত করলো। অপর দিকে যে মালিকী, শাফিয়ী এবং হাম্বলী মাযহাবের অনুসরন করলো, সেও প্রকৃতপক্ষে হযরত আওলাদু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদেরই ইতায়াত করলো। অনুরুপভাবে ইলমে তাসাউফের ত্বরীক্বাসমূহের সালিকগণও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের ইতায়াত করে থাকেন।
উল্লেখ্য যে, ঈমান ও আমলের ন্যায় উম্মাহর নাযাতও হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের উপরেই নির্ভরশীল। কারণ, মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ . إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّـهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
অর্থ: কিয়ামতের দিন ক্বলবে সালীম ব্যতিত মাল-সম্পদ ও সন্তান-সন্তুতি দিযে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার কাছ থেকে ফায়দা লাভ করতে পারবেনা। (পবিত্র সূরা শুয়ারা শরীফ: পবিত্র আয়াত শরীফ ৮৮-৮৯)
উপরোক্ত পবিত্র আয়াত শরীফ উনার তাফসীরে উল্লেখ করা হয়, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করে, উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে ইতায়াতকারীগণই কিয়ামতের ময়দানে ক্বলবে সালীম তথা প্রশান্ত অন্তর নিয়ে উঠবেন। অপর দিকে যারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে সর্বাধিক মুহব্বত করবেনা এবং উনাদেরকে হাক্বীক্বীভাবে ইতায়াতও করবেনা, তাদের কঠিন পরিণতি হবে। কারণ, মুহব্বত না করার অর্থই বিদ্বেষ পোষণ করা। আর এরুপ লোকদের ব্যাপারে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
عَنْ  حضرت مُعَاوِيَةَ بْنِ حُدَيْجٍ رحمة الله عليه عَنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ عليه السلام أَنَّهُ قَالَ لَهُ : يَا مُعَاوِيَةُ بْنَ حُدَيْجٍ ، إِيَّاكَ وبُغْضَنَا ، فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ، قَالَ : " لا يَبْغَضُنَا وَلا يَحْسُدُنَا أَحَدٌ إِلا ذِيدَ عَنِ الْحَوْضِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ بِسِيَاطٍ مِنْ نَارٍ
অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া ইবনে হুদাইজ রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার থেকে বর্ণিত। সাইয়্যিদুনা হযরত ইমাম হাসান আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আমরা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করিনা। কারণ, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, কিয়ামতের দিন আমাদের প্রতি হিংসা ও বিদ্বেষ পোষণকারীদেরকে আগুনের চাবুক দ্বারা প্রহার করে হাউজে কাওছার হতে তাড়িয়ে দেয়া হবে। (আল মু’জামুল আওছাত লিত্ ত্ববারী)
  অর্থাৎ, যে বা যারা হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের সন্তুষ্টি মুবারক অর্জন করতে পারবেনা, তারা কখনোই হাউজে কাওছার হতে পানি লাভ করতে পারবেনা। অপর দিকে যারা উনাদের রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারবে, তারা অকল্পনীয়ভাবে নাজাত লাভ করবে। কেননা পবিত্র হাদীছ শরীফে ইরশাদ মুবারক হয়েছে-
أَلا وَمن مَاتَ عَلـٰى حُبِّ اٰلِ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم يزف إِلَى الْجنَّة كَمَا تزف الْعَرُوس إِلَى بَيت زَوجهَا.
অর্থ: সাবধান! যিনি সম্মানিত হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুহব্বত মুবারকে ইন্তেকাল করবেন, উনাকে এমনভাবে সুসজ্জিত করে জান্নাতে নেয়া হবে, যেমনভাবে  নববধূকে সাজিয়ে তার স্বামীর ঘরে নেয়া হয়। সুবহানাল্লাহ। (নুজহাতুল মাজালিস)
বলা বাহুল্য যে, মুহব্বতের যেমন বহিপ্রকাশ রয়েছে, তেমনি বিদ্বেষ পোষণেরও বহিপ্রকাশ রয়েছে। হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদেরকে হাক্বক্বী মুহব্বত করলে বান্দা-বান্দী অবশ্যই উনাদেরকে ইতায়াত করবে। উনাদের ছানা-ছিফত করবে। উনাদের রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করবে। উনাদের আদর্শ মুবারককে সর্ব ক্ষেত্রে প্রাধান্য দিবে। উনাদের সমালোচনাকে কখনোই প্রশ্রয় দিবেনা। উনাদের শান মুবারকের খিলাফ কথা-বার্তা, লিখনী বা অন্য যে কোন নিকৃষ্ট কাজে সদা-সর্বদা প্রতিবাদ-প্রতিরোধ করবে। সর্বপোরি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিদ্বেষ পোষণকারীদের সাথে কখনোই সুসম্পর্ক রাখবেনা। অপরদিকে হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি যে বা যারা বিদ্বেষ পোষণ করে, উনাদেরকে ইতায়াত করবেনা। উনাদের ছানা-ছিফত করবেনা। উনাদের রেযামন্দি হাছিলের কোশেশ করবেনা। উনাদের আদর্শ মুবারককে কখনোই প্রাধান্য দিবেনা। উনাদের সমালোচনাকেই সবসময় প্রশ্রয় দিবে। উনাদের শান মুবারকের খিলাফ কথা-বার্তা, লিখনী বা অন্য যে কোন নিকৃষ্ট কাজে সদা-সর্বদা লিপ্ত থাকবে। সর্বপোরি হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের বিদ্বেষ পোষণকারীদের সাথে সব সময় সুসম্পর্ক বজায় রাখবে। নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
মূল কথা হলো, হযরত আহলু বাইত শরীফ আলাইহিমুস সালাম উনাদের মুবারক মুহব্বত ঈমানের মূল। উনাদের ইতায়াত আমলের মূল। উনাদের রেযামন্দি মুবারক নাযাতের মূল।

কারামতে মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৪

কারামতে মুত্বহহারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৪

একবার পবিত্র ৭ই রবীউল আউওয়াল শরীফে বা’দ মাগরিব সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবস উপলক্ষ্যে আযীমুশ শান দরবার শরীফে তাকবীর দেয়া হচ্ছিল। এক পীর বোন তিনি ইন্টারনেট ভয়েস আল-হিকমায় তা শুনছিলেন। তিনি উনার ল্যপটপ কম্পিউটার; যার মধ্যে আল-হিকমাহ শুনছিলেন তা নিয়ে বসলেন। ঠিক তখনই তিনি বুঝলেন, কোথা থেকে এক অপূর্ব সুঘ্রাণ বের হচ্ছে। তিনি ভালভাবে লক্ষ্য করে দেখলেন যে, উক্ত সুঘ্রাণ ল্যাপ্টপ থেকে বেরিয়ে আসছে। ধীরে ধীরে উক্ত সুঘ্রাণ সমস্ত বাড়ি ছড়িয়ে যায়। এমনকি পুরা বাড়ি সুঘ্রাণময় হয়ে যায়। সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে ইরশাদ মুবারক করেন,
اِنَّ رَحْمَةَ اللهِ قَرِيْبٌ مِّنَ الْمُحْسِنِيْنَ
অর্থ মুবারক: “ নিশ্চয়ই যারা মুহসিনীন উনাদের নিকট মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক রয়েছে।” সুবহানাল্লাহ!
 সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উম্মাহর জন্য মহান নিয়ামত স্বরূপ, খাছ রহমত মুবারক স্বরূপ। মহান আল্লাহ পাক উনার রহমত মুবারক ব্যতীত যেমন কোন কিছু সম্ভব নয়, তেমনি ওলীআল্লাহ উনাদের রহমত ব্যতীতও কোন কিছু হওয়া সম্ভব নয়। সালিকাগণ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসিলাতেই সমস্ত নাজ-নিয়ামত মুবারক লাভ করছে, অপার মহিমা হাছিল করছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি যেন দায়েমীভাবে খাছ রহমত মুবারক সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার খুছুছিয়াত-বৈশিষ্ট্য, শান-মান, মর্যাদা-মর্তবা মুবারক বুঝে সেই অনুযায়ী কুল-কায়িনাতবাসী সকলকে উনার ক্বদম পাকে রুজু হওয়ার,হাক্বীক্বী ইছলাহ হওয়ার, সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করার তৌফিক দান করেন। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৩

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩৩

এক পীর বোনের প্রচন্ড মাথা ব্যথা ছিল। ব্যথাটা উনার বছরে ২-৩ বার হত এবং ব্যথার তীব্রতা দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত থাকত। যখন মাথা ব্যথা হত তখন প্রচন্ড বমিও হত। এত বেশি বমি হত যেন যতক্ষণ পর্যন্ত শরীরে শক্তি আছে ততক্ষণ পর্যন্ত বমি হতেই থাকতো। বমি শেষে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়তেন এবং অসহনীয় ব্যথায় মাথার চুল ধরে টানতে থাকতেন। এই ব্যথাটা যখনই উঠত তখন উনার চোখের উপরে এবং নিচে এমনভাবে কাল হয়ে যেত; দেখলে মনে হত যেন তিনি চোখে মারাত্মক আঘাত পেয়েছেন। এই সমস্যার কারণে তিনি অনেক ডাক্তার দেখিয়েছেন, ঔষধ খেয়েছেন, ব্যবহার করেছেন, অনেক টাকা-পয়সা খরচ করেছেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ দেখিয়েছেন, চশমাও ব্যবহার করেছেন কিন্তু কোন কাজ হত না। ব্যথা যখন উঠতো তখন প্রতিবারই একই অবস্থা হত। একবার তিনি পবিত্র রমাদ্বান শরীফে দরবার শরীফে অবস্থান করছিলেন। এমতাবস্থায় উনার রাতে মাথা ব্যথা উঠল এবং পূর্বের ন্যায় একই অবস্থার সৃষ্টি হল। রাত ৩ টার দিকে উনার একটু ঘুম হয়। এরপর তিনি পরবর্তী দিন সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে বিষয়টি জানালেন এবং খাছভাবে দোয়া মুবারক চাইলেন। পীর বোন আরজী করেন, “আম্মাজী! আমার প্রচন্ড মাথা ব্যথা। আমি এই কারণে খুব কষ্ট পাচ্ছি। দোয়া মুবারক চাই যেন আমার ব্যথা ভাল হয়ে যায়।” তখন সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি বলেন, “আচ্ছা ঠিক আছে।”  আর সেই সাথে ফুঁ মুবারকও দিয়ে দেন। উক্ত পীর বোন বলেন, উনার ফুঁ মুবারকে আমি শীতলতা অনুভব করি। আমার মনে হল যে, তৎক্ষণাৎ আমার মাথা থেকে এই অসহ্য ব্যথা যেন চিরতরে নেমে গেল। সেই দিনের পর থেকে মাথা ব্যথা আর কখনোই উঠেনি। যেন আমি স্থায়ী প্রশান্তি লাভ করলাম।” সুবহানাল্লাহ!
মহান আল্লাহ পাক তিনি সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার মুবারক উসিলায় সমস্ত অসুস্থতা থেকে পরিপূর্ণ সুস্থতা দান করেন, হিফাজত করেন এবং স্থায়ী প্রশান্তি দান করেন। আমরা যেন সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার ছোহবত মুবারকে থেকে অনন্তকাল ধরে হাক্বীক্বী সন্তুষ্টি-রেযামন্দি মুবারক হাছিল করতে পারি। (আমীন)

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩২

কারামতে মুত্বহ্হারাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩২

এক পীর ভাই তিনি উনার পরিবার-পরিজনসহ দুবাই যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই সময়ে দুবাই ভিসা এত সহজলভ্য ছিল না।তাই তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের মাধ্যমে ভিসার আবেদন করেন। এরপর বাংলাদেশ এ্যামবেসী থেকে পুরো পরিবারের ভিসা নিশ্চিত করা হয়। যেহেতু ভিসা হয়ে গেছে তাই উক্ত পীর ভাই পরিবারের সকল সদস্যের জন্য টিকিট করে ফেলেন। এদিকে ভিসা হাতে পাওয়ার পরে দেখা গেল, পরিবারের দুইজনের (উক্ত পীর ভাই এবং উনার ছেলে) ভিসা হয়নি। এমতাবস্থায় সবাই খুব চিন্তায় পড়ে গেলেন। এর মাঝে আবার জুমুয়াবার, সাপ্তাহিক ছুটি। ছুটির দিনে তো আর কোন কিছু করা সম্ভব নয়। তাই পীর ভাই এবং উনার আহলিয়া দরবার শরীফে আসলেন এবং উনার আহলিয়া সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নুরুদ দারাজাত মুবারকে আরজী পেশ করলেন যেন সহজেই সমাধান হয়ে যায় এবং দোয়া মুবারক চাইলেন। ঠিক পরের দিন জুমুয়াবার অফিস থেকে ফোনে জানানো হয় যে, বাকি দুইজনের ভিসাও হয়ে গেছে। উক্ত পীর ভাই উনার আহলিয়া জানান যে, ছুটির দিন সব বন্ধ থাকে; সেদিন ভিসা পাওয়ার কোন সম্ভাবনা ছিলনা। কিন্তু সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার নিকট জানানোর কারণে, দোয়া মুবারক নেয়ার কারণে তা সম্ভব হয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সমস্ত অসম্ভব ও অকল্পনীয় বিষয়গুলো সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনাকে জানানোর ফলে উনার সুমহান সম্মানার্থে মহান আল্লাহ পাক তিনি উক্ত বিষয়গুলো সহজ ও সম্ভব করে দেন। যা কিনা সাধারণ মানুষের চিন্তা ও কল্পনার বাহিরে।
মহান আল্লাহ পাক উনার নিকট আরজী, আমরা যেন সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার পুত-পবিত্র ক্বদম মুবারক উনার মধ্যে সন্তুষ্টি মুতাবেক ইস্তেকামত থাকতে পারি। (আমীন)

কারামতে মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩১

কারামতে মুত্বহহিরাহ, মুত্বহহিরাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম-৩১

৬ই রবীউল আউওয়াল শরীফ, বাদ আসর এক পীর ভাই সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার মুবারক ছোহবতে বসা ছিলেন। তিনি চিন্তা করছিলেন, আসন্ন ৭ই রবীউল আউওয়ার শরীফে অর্থাৎ সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম উনার বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ দিবসে কী হাদিয়া করা যায়। সেই সময় পীর ভাইয়ের ব্যবসায়িক নানান সমস্যা চলছিল। আর যেহেতু আক্বল-সমঝের অভাব, ইছলাহ প্রাপ্ত না; তাই তিনি কী হাদিয়া করবেন এই নিয়ে খুব চিন্তিত ছিলেন। এমতাবস্থায় তিনি মনে করলেন, “উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি তো গোলামের হাদিয়ার মোহতাজ নন, তাই তিনি যাকে তাওফীক দিবেন, কবুল করবেন, যার উপর দয়া মুবারক করবেন সে ব্যক্তিই কেবল উনার নুরুদ দারাজাত মুবারকে (ক্বদম মুবারক) হাদীয়া পেশ করতে সক্ষম হবে।” এরপর তিনি মুবারক ছোহবত শেষে বের হয়ে আসলেন এবং ভাবতে লাগলেন, তিনি যতটুকু হাদীয়া দেয়ার কথা চিন্তা করেছিলেন, তাই দিবেন কিনা ...ইত্যাদি নানান চিন্তা। চিন্তার এক পর্যায়ে তিনি এক অভুতপূর্ব আওয়াজ মুবারক শুনতে পেলেন। সাইয়্যিদাতুনা উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি উক্ত পীর ভাইকে বলছেন, “তুমি যা চিন্তা করেছ, তাই হাদিয়া কর। তাহলে আমিও তোমাকে দান করব। অর্থাৎ আমি তোমাকে নিয়ামত দান করব। সুবহানাল্লাহ!
এই ঘটনার পরে উক্ত পীর ভাই উনার বোধগম্য হল যে, মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনারা সবকিছু দেখেন, জানেন এবং শুনেন। উনাদেরই হাক্বীক্বী ক্বায়েম-মাক্বাম যামানার খাছ লক্ষ্যস্থল ওলীআল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি। সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মুল উমাম আলাইহাস সালাম তিনি সমস্ত নিয়ামতরাজির মালিকা, সমস্ত নেয়ামত বন্টনকারী, তিনি সর্বদা সবকিছু দেখেন, জানেন এবং শুনেন। কখনো কখনো তিনি সেই শান মুবারক প্রকাশ করেন।
মহান আল্লাহ পাক তিনি হাক্বীক্বী ভাবে উনাকে জানার এবং হাক্বীক্বী শান-মান বুঝার তৌফিক আমাদেরকে দান করেন। (আমীন)