Showing posts with label কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক. Show all posts
Showing posts with label কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক. Show all posts

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (৩)

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (৩)
অমৌসুমী ফল খাওয়া:
সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রুহুল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনি অমৌসুমী ফল খেতেন। একদিন হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তা দেখে ফেললেন। এ প্রসঙ্গে কালাম পাকে বর্ণিত আছে-
كُلَّمَا دَخَلَ عَلَيْهَا زَكَرِيَّا الْمِحْرَابَ وَجَدَ عِندَهَارِزْقًا قَالَ يَا مَرْيَمُ أَنَّىٰ لَكِ هَـٰذَا
অর্থ:- হযরত যাকারিয়া আলাইহিস সালাম তিনি যখনই মিহরাবে উনার (হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম) নিকট আসতেন তখনই কিছু না কিছু রিযিক (খাবার) দেখতে পেতেন। একদিন তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, হে মরিয়ম আলাইহাস সালাম! এগুলো কোথায় পেলেন? তখন কি বললেন?
هُوَ مِنْ عِندِ اللَّـهِ ۖ إِنَّ اللَّـهَ يَرْزُقُ مَن يَشَاءُ بِغَيْرِ حِسَابٍ
অর্থ: এগুলো মহান আল্লাহ পাক উনার তরফ থেকে (হাদিয়া স্বরূপ) এসেছে। আর মহান আল্লাহ পাক তিনি যাকে ইচ্ছা তাকে বেহিসাব রিযিক দান করেন। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৩৭)

হযরত আসিফ বিন বারখিয়া
রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার চোখের পলকে সিংহাসন আনয়ন
মহান আল্লাহ পাক উনার জলিলুল কদর ও সম্মানিত রসূল হযরত সুলাইমান আলাইহিস সালাম। মহান আল্লাহ পাক উনাকে সারা দুনিয়ার কর্তৃত্ব (শাসন ক্ষমতা) দিয়েছেন। তিনি সকল মাখলুকাতের ভাষা জানতেন। হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার প্রধান ও সভাসদগণের বিশেষ ব্যক্তিত্বের নাম মুবারক ছিল আসিফ বিন বারখিয়া রহমতুল্লাহি আলাইহি। যিনি সিদ্দীক তবকার ওলী আল্লাহ ছিলেন। উনার দ্বারা যে কারামত মুবারক প্রকাশ পেয়েছে তা মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফে বর্ণনা করেছেন। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
وقَالَ الَّذِي عِندَهُ عِلْمٌ مِّنَ الْكِتَابِ أَنَا آتِيكَ بِهِ قَبْلَ أَن يَرْتَدَّ إِلَيْكَ طَرْفُكَ ۚ
অর্থ: আর (তাদের মধ্যে) যাঁর কিতাবের ইলিম ছিল তথা যিনি ওলী আল্লাহ ছিলেন তিনি (সিংহাসন আনার ব্যাপারে) বললেন, আপনি চোখের পলক ফেলার পূর্বে আমি তা আপনাকে এনে দিব। (পবিত্র সূরা নমল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০)
হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তিনি উনার দৃঢ় চিত্ত কথা শুনে খুবই খুশী হলেন। তিনি উনাকে অনুমতি দিলেন। তিনি চোখের পলকে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার কাছে তা উপস্থিত করলেন। সুবহানাল্লাহ! এটা দেখে হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তিনি অত্যন্ত খুশি হলেন। আর বললেন-
فَلَمَّا رَآهُ مُسْتَقِرًّا عِندَهُ قَالَ هَـٰذَا مِن فَضْلِ رَبِّي لِيَبْلُوَنِي اَاَشْكُرُ اَمْ اَكْفُرُ
অর্থ: হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম তিনি যখন তা সামনে উপস্থিত বা রক্ষিত দেখলেন, তখন বললেন, ইহা আমার পালনকর্তা মহান রব তায়ালা উনার বিশেষ অনুগ্রহ। তিনি আমাকে পরীক্ষা করেন যে, আমি শুকরিয়া আদায় করি, অথবা না করি।” (পবিত্র সূরা নমল শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪০)
সুলতানুল আরিফীন, ইমামুল মুহাদ্দিসীন, হযরত ইমাম জালালুদ্দীন সূয়ুতী রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি বলেন- হযরত আসিফ বিন বারখিরা রহমাতুল্লাহি আলাইহি তিনি হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনাকে বললেন, আপনি আকাশ পানে দৃষ্টি নিক্ষেপ করুন। তিনি আকাশের দিকে তাকালেন। অতঃপর দৃষ্টি ফিরালেন। আর সাথে সাথে তিনি উনার সামনে সাবার রানী হযরত বিলকিস আলাইহাস সালাম উনার রাজ সিংহাসন স্থাপিত দেখতে পেলেন। সুবহানাল্লাহ! (তাফসীরে জালালাইন শরীফ)
বাইতুল মাকদাস থেকে ইয়ামানের সাবা শহরের দূরত্ব এক হাজার মাইলেরও বেশী। এতদূর থেকে এত বড় বিশাল সিংহাসন মহুর্তের মধ্যে হাজির করা স্বাভাবিক নয়। তা অবশ্যই কারামত মুবারক উনার অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ!

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালাত মুবারক (৫)

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালাত মুবারক (৫)
সর্বকালের সর্বযুগের সর্ব শ্রেষ্ঠ মুজাদ্দিদ, মুজাদ্দিদে আ’যম, খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ মুহইস সুন্নাহ কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, জাব্বারিউল আউয়াল, ক্ববিউল আউয়াল, আহলু বাইতে রসূলিল্লাহ, হাকিমুল হাদীছ, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আস সাফফা আলাইহিস সালাম উনার অসংখ্য-অগণিত কারামত মুবারক ও কামালত মুবারক ইতোমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। আমরা আলোচ্য নিবন্ধে তার কতিপয় উল্লেখ করবো। ইহা মু’মিন-মু’মিনাগণের ইমানী কুওওয়াত বৃদ্ধির কারণ হবে। তাদের আমলের জজবা বা অনুপ্রেরণা যোগাবে। হক্ব তালাশী তথা মা’রিফাত-মুহব্বত প্রত্যাশীগণের আত্তার খোরাক বা রুহানী গেযা হবে। সর্বাপরি তাদের সন্তুষ্টি-রেজামন্দির পথ প্রসারিত হবে। সুবহানাল্লাহ! 

কারামত মুবারক-১
১৯৯৩ সালের কথা। কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলা। উলিপুর এম.এস.এম. উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ওয়াজ ও দোয়ার মাহফিল। প্রধান অতিথি ছিলেন- ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীছ, হুজ্জাতুল ইসলাম, সুলতানুল আরিফীন, জাব্বারিউল আউয়াল, ক্ববিউল আউয়াল, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম। তিনি যথাসময়ে মাহফিল মুবারকে তাশরীফ নেয়ার জন্য রওয়ানা হলেন। মাহফিলের নিকটবর্তীও হলেন। কিন্তু প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলো দুটি বিল্ডিং এবং একটি পুকুর। দুই বিল্ডিংয়ের মধ্য দিয়ে সংকীর্ণ রাস্তা পার হয়ে ষ্টেজে পৌঁছা সম্ভব নয়। 
ড্রাইভার সাহেব থমকে দাঁড়ালেন। কারণ, এতো সংকীর্ণ রাস্তা দিয়ে Pajero Jeep কখনো ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। আর ইতোপূর্বে এতবড় গাড়ী কখনো প্রবেশও করেনি। তাহলে কি হেঁটে যেতে হবে? কিন্তু না। তিনি তো মহান আল্লাহ পাক উনার ওলী বা পরম বন্ধু। তিনি কি তা হতে দিতে পারেন? কি করে সম্ভব? তিনি তো উনার ওলী উনার জন্য যথেষ্ট। কুল কায়িনাতের সকলই উনাদের খিদমত মুবারকের জন্য সদা-ইন্তিজার। সব কিছুই উনাদের খিদমত মুবারকের জন্য ফানা। 
খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, মুজাদ্দিদে আ’যম, আহলু বাইতি রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম তিনি ড্রাইভার সাহেবকে উদ্দেশ্য করে বললেন, দাঁড়ালে কেন? যাও। ড্রাইভার সাহেব বললেন, মুর্শিদ ক্বিবলা! বেয়াদবী ক্ষমা চাই। রাস্তাটি ছোট। গাড়ী ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে না। 
সাইয়্যিদুনা মামদূহ হযরত মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি উনাকে আবারো বললেন, যাও। সামনে বাড়াও। এবারো ড্রাইভার সাহেব অক্ষমতা প্রকাশ করলেন। তখন মহান মুর্শিদ ক্বিবলা আলাইহিস সালাম তিনি একটু জালালিয়াতের সাথে বললেন, তোমাকে যেতে বলছি। তুমি সামনে অগ্রসর হও। কোন দিকে তাকাবে না। আর ইতোমধ্যে অনেক লোক চতুর্দিকে দাঁড়িয়ে গেলো। তারা ব্যাপারটা পর্যবেক্ষণ করছে। এতো ছোট রাস্তা দিয়ে গাড়ীটি কি ভিতরে প্রবেশ করবে? দেখার জন্য সবাই কৌতুহলী হয়ে রয়েছেন। এবার ড্রাইভার সাহেব, তিনি কোন কথা না বাড়িয়ে গাড়ী স্টার্ট করলেন। আর অনায়াসে গাড়িটি গন্তব্য স্থান- মাহফিল স্টেজের নিকটে এসে দাঁড়ালো। সুবহানাল্লাহ! উপস্থিত সবাই একবার রাস্তার দিকে দেখছে! আর একবার গাড়ীর দিকে তাকাচ্ছে। আর ভাবছে কিভাবে গাড়ীটি এতো সংকীর্ণ রাস্তা দিতে প্রবেশ করলো। কেউ কেউ বলতেছিলেন উনার মতো ওলীআল্লাহ উনার জন্য ব্যাপারটি একেবারে মামুলী। কেউ বলছে একেই বলে কারামত মুবারক। ওলীআল্লাহগণ উনাদের কারামত মুবারক যে সত্য ইহা তারই বহিঃপ্রকাশ। সুবহানাল্লাহ!

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (৪)

খলীফাতুল্লাহ খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (৪)
আমরা পূর্বেই উল্লেখ করেছি যে, কারামত মুবারকে বিষয়টি পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ সম্মত। অর্থাৎ পবিত্র হাদীছ শরীফেও তার অনেক প্রমাণ রয়েছে।

লাঠি মুবারক থেকে আলো বিচ্ছুরিত হওয়া
লাঠি মুবারক থেকে আলো বিচ্ছুরিত হওয়া স্বাভাবিক বিষয় নয়। বিশিষ্ট ছাহাবী, খাদিমু রসূলিল্লাহ হযরত আনাছ ইবনে মালিক রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু তিনি বর্ণনা করেন। হযরত উসাইদ ইবনে হুযাইর রদ্বিয়াল্লাহু আনহু এবং হযরত আব্বাস ইবনে বিশর রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনারা দুজনই বিশিষ্ট ছাহাবী। একদিন উনারা কোন এক বিশেষ প্রয়োজনে নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার ছোহবত মুবারকে গেলেন। দীর্ঘ রাত পর্যন্ত নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার সাথে কথা-বার্তা বললেন। রাতটি ছিল ঘোর অন্ধকার। উনারা নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার নিকট থেকে বাড়ীর উদ্দেশ্যে রওয়ানা হলেন। সে সময় উনাদের প্রত্যেকের হাতে ছোট একটি লাঠি মুবারক ছিল। পথে বের হওয়ার পর উনাদের একজনের লাঠি মুবারকটি বাতির ন্যায় আলো দিতে লাগলো। সুবহানাল্লাহ! আর উনারা সেই লাঠি মুবারকের আলোতে পথ চলতে থাকেন। তারপর কিছুদুর যাওয়ার পর উনাদের পথ যখন পৃথক পৃথক হলো তখন অপরজনের লাঠি মুবারকটিও আলোকিত হয়ে উঠলো। সুবহানাল্লাহ! অবশেষে উনারা প্রত্যেকে আপন আপন লাঠি মুবারকের আলোয় নিজেদের বাড়ীতে পৌঁছে গেলেন। সুবহানাল্লাহ! (বুখারী শরীফ, মুসলিম শরীফ)
এরূপ ঘটনা একটি-দুটি নয়। বরং হাজার হাজার ঘটনা পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে। কাজেই কারামত মুবারককে অস্বীকার করা যে কুফরী তা ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন নেই।
তবে ব্যক্তি বিশেষ তথা নির্দিষ্ট কোন ওলী আল্লাহ উনার নির্দিষ্ট কোন কারামত মুবারককে অস্বীকার করা কুফুরী না হলেও অবশ্যই গোমরাহী। ক্ষেত্র বিশেষে ইমান হারা হওয়ার কারণ। মহান আল্লাহ পাক তিনি আমাদের সবাইকে হিফাযত করুন। 

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (২)

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (২)
পবিত্র কুরআন শরীফে বর্ণিত কারামত মুবারক পবিত্র কুরআন শরীফে অনেক কারামত মুবারক উল্লেখ আছে। তন্মধ্যে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য-

পুরুষের সংস্পর্শ ব্যতীত সন্তান লাভ:

সাইয়্যিদাতুনা হযরত উম্মু রুহুল্লাহ আলাইহাস সালাম তিনি পুরুষের সংস্পর্শ ব্যতীত সন্তান লাভ করেছেন। বিষয়টি মহান আল্লাহ পাক তিনি পবিত্র কালামুল্লাহ শরীফ উনার মধ্যে উল্লেখ করেছেন-

إِذْ قَالَتِ الْمَلَائِكَةُ يَا مَرْيَمُ إِنَّ اللَّـهَ يُبَشِّرُكِ بِكَلِمَةٍ مِّنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ
অর্থ: যখন হযরত ফেরেশতা আলাইহিমুস সালাম উনারা বললেন, হে হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম! মহান আল্লাহ পাক তিনি আপনাকে উনার একজন প্রিয় বান্দা, খলীল বা বন্ধুর সুসংবাদ দিচ্ছেন। উনার সম্মানিত নাম মুবারক হবে মসীহ, ঈসা ইবনে মরিয়ম আলাইহিস সালাম! সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৫)

অতঃপর উনার ছানা-সীফাত বর্ণনা করত মহান আল্লাহ পাক তিনি বলেন-

وَجِيهًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ. وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلًا وَمِنَ الصَّالِحِينَ

অর্থ: দুনিয়া ও আখিরাতে তিনি হবেন মহাসম্মানের অধিকারী তথা লক্ষ্যস্থল। আর মুর্কারাবীন (নৈকট্যপ্রাপ্ত) গণের অন্তর্ভূক্ত। তিনি দোলনা থেকে পূর্ণ বয়স্ক লোকদের মত মানুষের সাথে কথা বলবেন। তিনি হবেন সলেহীনগণের অন্তর্ভূক্ত। সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৬)

এ সুসংবাদ শুনে উম্মু রুহুল্লাহ সাইয়্যিদাতুনা হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম তিনি বললেন-
رَبِّ اَنَّىٰ يَكُوْنُ لِـىْ وَلَدٌ وَلَـمْ يَـمْسَسْنِـىْ بَشَرٌ 
অর্থ: হে মহান রব, আল্লাহ পাক! কেমন করে আমার আওলাদ (সন্তান) হবে? আমাকে তো কোন মানুষ স্পর্শ করেনি? (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)
মহান আল্লাহ পাক তিনি জওয়াবে বললেন,
كَذَٰلِكِ اللَّـهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ
অর্থ: আপছে আপ হবে। তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবে সৃষ্টি করে থাকেন।” সুবহানাল্লাহ! (পবিত্র সূরা আলে ইমরান শরীফ : পবিত্র আয়াত শরীফ ৪৭)

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (১)

খলীফাতুল্লাহ, খলীফাতু রসূলিল্লাহ, ইমামুল আইম্মাহ, মুহইস সুন্নাহ, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আরিফীন, মুজাদ্দিদে আ’যম, হাকিমুল হাদীস, আহলে বাইতে রসূল ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুল উমাম আলাইহিস সালাম উনার কতিপয় কারামাত মুবারক ও কামালত মুবারক (১)
মহান আল্লাহ পাক তিনি উনার ওলী বা বন্ধুগণকে সীমাহীন মর্যাদা-মর্তবা, সম্মান-ইজ্জত মুবারক হাদিয়া করেন। সেই মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে কারামত মুবারক। ওলী আল্লাহ হওয়ার জন্য কারামত শর্ত নয়। কিন্তু প্রত্যেক ওলী আল্লাহ উনাদের কিছু না কিছু কারামত মুবারক প্রকাশিত হয়। ওলী-আল্লাহগণ উনাদের কারামত মুবারক মুমিন-মুত্তাকীগণের রুহানী গেজা বা খাদ্য। ইহা মুমিন-মুমিনাগণের ঈমানী কুওওয়াত বা শক্তি বৃদ্ধি করে। আর ফাসিক-ফুজ্জার, কাফির-মুশরিকদের ধ্বংসের পথ প্রসারিত করে।
كَرَامَاتٌ (কারামত) শব্দটি বহুবচন। তার একবচন হচ্ছে كَرَامَةٌ (কারামত) অর্থঃ সম্মান, মর্যাদা, অলৌকিক ঘটনাসমূহ।
ওলী-আল্লাহগণ উনাদের সম্মান বা মর্যাদা-মর্তবার বহিঃপ্রকাশ অলৌকিক ঘটনাকে কারামত মুবারক বলা হয়। হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের মাধ্যমে প্রকাশিত অলৌকিক ঘটনাবলীকে مُعْجِزَةٌ মু’জিযা শরীফ বলা হয়।
আর কাফির-মুশরিক, বেদ্বীন-বদ্বীন, বদ মাযহাবী, বদ আক্বীদা, দাজ্জাল, ফাসিক-ফুজ্জারদের দ্বারা প্রকাশিত অস্বাভাবিক ঘটনাবলীকে اِسْتِدْرَاجٌ (ইসতিদরাজ) বলা হয়।
অপ্রাপ্ত বয়স্ক- শিশু বাচ্চাদের মাধ্যমে প্রকাশিত ঘটনাবলীকে عَوْنٌ (আওন) বলে। 
আক্বাইদে নাছাফীসহ অনেক কিতাবে বর্ণিত আছে যে, 
كَرَامَاتُ الْاَوْلِيَاءِ حَقٌّ.
অর্থ : “আউলিয়া কিরামগণ উনাদের কারামত মুবারক সত্য।” যা আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াতের আক্বীদা-বিশ্বাস। বদ আক্বীদা-বদ মাযহাবী লোকেরা কারামত মুবারককে অস্বীকার করে। নাউযুবিল্লাহ! আমভাবে কারামত উনার অস্তিত্বকে অস্বীকার করা কুফুরী। খাছ বা নির্দিষ্ট কোন ওলী আল্লাহ উনার কারামতকে অস্বীকার করা কুফুরী না হলেও ক্ষেত্র বিশেষে ঈমান হারা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কেননা, কারামত অস্বীকার দ্বারা সংশ্লিষ্ট ওলীআল্লাহ উনার প্রতি বিদ্বেষ ভাবাপন্নতা পরিলক্ষিত হয় যা অত্যন্ত ক্ষতিকর। পবিত্র হাদীছে কুদসী শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত আছে। মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন-
مَنْ عَادَى لِي وَلِيًّا فَقْد آذَنْتُهُ بِالْحَرْبِ
অর্থ: যে ব্যক্তি আমার ওলী উনার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে, আমি তার বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা করি। নাউযুবিল্লাহ! (বুখারী শরীফ) 
অর্থাৎ ওলীআল্লাহগণ উনাদের প্রতি বিদ্বেষ-বিরোধীতা লানতগ্রস্থতার বহিঃপ্রকাশ।
কারামত মুবারক- পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র সুন্নাহ শরীফ উনাদের দ্বারা স্বীকৃত। পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের মধ্যে তার অনেক প্রমাণ আছে। কুদরতীভাবে উম্মু রুহিল্লাহ হযরত মরিয়ম আলাইহাস সালাম উনার সন্তান লাভ এবং অমৌসুমী ফল খাওয়া। হযরত আসিফ বিন বারখিয়া রহমাতুল্লাহি আলাইহি উনার চোখের পলকে সাবার রানী বিলকিস আলাইহাস সালাম উনার সিংহাসন আনয়ন এবং হযরত সুলায়মান আলাইহিস সালাম উনার সামনে তা হাজিরকরণ সবই কারামত মুবারক উনারই অন্তর্ভূক্ত। 
একইভাবে পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে বর্ণিত- হযরত ফারুকে আ’যম আলাইহিস সালাম “ইয়া সারিয়া! আল জাবাল” বলা, আর তা নাহাওন্দ অভিযানের সৈন্য বাহিনী শুনতে পাওয়া। লাঠির মাথায় আগুন প্রজ্জলিত হওয়া ইত্যাদি সবই সম্মানিত কারামত মুবারকের অন্তর্ভূক্ত। যাকে অস্বীকার করা কুফুরী।