Showing posts with label আত তাক্বউইমুশ শামসী. Show all posts
Showing posts with label আত তাক্বউইমুশ শামসী. Show all posts

কবিতা আত তাকউইমুশ শামসী

কবিতা আত তাকউইমুশ শামসী
জোড়ের মাসে বিজোড় হবে
বিজোড় মাসে জোড়।

দ্বাদশ মাস ভিন্ন হয়ে
জোড়ে হবে ভোর।

৪ দ্বারা সাল ভাজ্য হলে
দ্বাদশ মাস বিজোড়।

১২৮ দ্বারা ভাজ্য হলে
আগের মতো জোড়।


ব্যাখ্যা : জোড়ের মাসে বিজোড় হবে যেমন ছানী, রাবি’, সাদিস, ছামিন, আশির (৩১ দিনে)। বিজোড় মাসে জোড়। যেমন আউওয়াল, ছালিছ, খমিস, সাবি’, তাসি’, হাদী ‘আশার (৩০ দিনে)।
দ্বাদশ মাস ভিন্ন হয়ে, জোড়ে হবে ভোর। এখানে দ্বাদশ মাস (ছানী আশার) জোড় হবার কারণে ৩১ দিনে হবার কথা কিন্তু ভিন্ন হবে অর্থাৎ ৩০ দিনে হবে। আর ভোর অর্থ “ছানী আশার” শেষ হয়ে নতুন বছর শুরু হয়।
৪ দ্বারা সাল ভাজ্য হলে, দ্বাদশ মাস বিজোড়। যেমন ১৩৮৪ শামসী সন (৩১ দিনে)। ১২৮ দ্বারা ভাজ্য হলে, আগের মতো জোড়। এখানে আগের মতো জোড় বলতে ৪ দ্বারা বিভাজ্য সাল ৩১ দিনে হলেও ১২৮ দ্বারা বিভাজ্য সাল ৩০ দিনে হবে। যেমন ১৪০৮ শামসী সন (৩০ দিনে)।

আত তাক্বউইমুশ শামসী ব্যবহার শুরু করার উপায়

আত তাক্বউইমুশ শামসী ব্যবহার শুরু করার উপায়
১) যে কোন একটি সন ব্যবহার করতে চাইলে অবশ্যই সেই সনের একটি ক্যালেন্ডার হাতের কাছে থাকা প্রয়োজন। শামসী সনের ক্যালেন্ডার ছাপা হয়েছে সেটি সংগ্রহ করতে পারেন। আর অফিসে বা বাসার কম্পিউটারে শামসী তারিখ কনভার্টার নিয়ে রাখতে পারেন, এতে আজ শামসী কত তারিখ বা একটা নির্দিষ্ট দিন শামসী কত তারিখ ছিল তা সহজেই জেনে নিতে পারবেন।

২) প্রতিদিনের কাজের হিসাবগুলো শামসী তারিখ অনুযায়ী করুন তাতে শামসী তারিখ মনে থাকবে।

৩) খুব সহজ পদ্ধতি হচ্ছে প্রতি মাসে ঈসায়ী তারিখের সঙ্গে ১ দিন বা ২ দিন মাত্র পার্থক্য থাকে। প্রতি মাসের শুরুতেই জেনে নিন পার্থক্য কত দিনের এতে মনে রেখে ব্যবহার করতে সহজ হবে। যেমন এ বছর আউওয়াল মাসের সাথে জুন মাসের পার্থক্য ২ দিন।

৪) তবে শুরুতে মাসের নাম, দিনের নাম, মাস গণনার নিয়ম একটু মুখস্থ করে নিলে সুবিধা হবে।

আত তাক্বউইমুশ শামসী অনুসরণের সুফল

আত তাক্বউইমুশ শামসী অনুসরণের সুফল
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জি কাফিরদের তৈরি ফলে এর অনুসরণের ফলে শুধু কাফিরদের স্মরণ হয়; যা মুসলমান উনাদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। এ ছাড়াও এর অনুসরণে কল্যাণ নেই বরং অকল্যাণ রয়েছে। কিন্তু “আত-তাক্বউইমুশ শামসী”- এই তাক্বউইম অনুসরণে কাফিরদের অনুসরণ হয় না বরং মহান আল্লাহ পাক উনার এবং উনার হাবীব, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনাদের স্মরণ হয়। ফলে মুসলমান উনারা রহমত, বরকত, সাকীনা লাভ করবে। কাফিররা সব ক্ষেত্রে মুসলমান উনাদের অনুসরণ করবে। কারণ এদের সৃষ্টি করা হয়েছে মুসলমান উনাদের খিদমতের জন্য। এই শামসী তাক্বউইম তৈরির ফলে এর ব্যাপক প্রচার-প্রসার হলে ধীরে ধীরে কাফিররা এর অনুসরণ করবে এবং মুসলমান উনাদের শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য বৃদ্ধি পাবে ইনশাআল্লাহ।
গ্রেগরিয়ান বর্ষপঞ্জির ব্যবহার বন্ধ করলে মুসলমান উনারা কাফিরদের অনুসরণ এবং এর অনুসরণের বদ তাছির থেকে বেঁচে থাকতে পারবেন। ইনশাআল্লাহ

আত তাক্বউইমুশ শামসী বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রসারের উপায়

আত তাক্বউইমুশ শামসী বিশ্বব্যাপী প্রচার-প্রসারের উপায়
পবিত্র হাদীছ শরীফ উনার মধ্যে ইরশাদ মুবারক হয়েছে,

عَنْ حَضْرَتْ أَبُو هُرَيْرَةَ رَضِىَ اللهُ تَعالٰى عَنْهُ عَنِ النَّبِيّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ اِذَا اَحَبَّ اللهُ الْعَبْدَ نَادَى جِبْرِيْلَ اِنَّ اللهَ يُـحِبُّ فُلاَنًا فَأَحْبِبْهُ‏.‏ فَيُحِبُّهٗ جِبْرِيلُ، فَيُنَادِيْ جِبْرِيلُ فِيْ أَهْلِ السَّمَاءِ اِنَّ اللهَ يُـحِبُّ فُلاَنًا فَأَحِبُّوْهُ‏.‏ فَيُحِبُّهٗ أَهْلُ السَّمَاءِ، ثُـمَّ يُوْضَعُ لَهُ الْقَبُوْلُ فِي الاَرْضِ‏‏.‏

অর্থ : “হযরত আবূ হুরায়রা রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, যখন যে কেউ মহান আল্লাহ পাক উনার নৈকট্যশীল বান্দা হন তখন মহান আল্লাহ পাক তিনি উনাকে মুহব্বত করেন এবং মহান আল্লাহ পাক তিনি হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম উনাকে ডেকে বলেন, হে হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম! আমি অমুক বান্দাকে মুহব্বত করি, ফলে আপনিও উনাকে মুহব্বত করুন। তখন হযরত জিবরীল আলাইহিস সালাম তিনি ঐ ব্যক্তিকে মুহব্বত করতে থাকেন এবং সেই ব্যক্তির নাম আসমানে ঘোষণা করে দেয়া হয়, তখন আসমানবাসীও সেই ব্যক্তিকে মুহব্বত করতে শুরু করেন। একইভাবে ঐ ব্যক্তির নাম যমীনে ঘোষণা করে দেয়া হয় তখন যমীনবাসীও উনাকে মুহব্বত করতে থাকেন। এভাবে সেই ব্যক্তি উনার নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।” (বুখারী শরীফ)

যখন ১৮৮৪ সালে প্রথম প্রাইম মেরিডিয়ান (পৃথিবীর মূল মধ্য রেখা) সম্মেলন হয় তখন ফ্রান্স ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকে এবং দীর্ঘ সময় সে তার মেরিডিয়ানকেই প্রাইম মেরিডিয়ান বলে বিবেচনা করে। তাতে কিন্তু ফ্রান্সের সমস্যা হয়নি। আন্তর্জাতিকভাবে এখন স্বীকৃত না হলেও একদিন হবে। আর কাফিররা কি মানলো আর কি মানলো না তাতে কিছু আসে যায় না। একদিন অবশ্যই মানতে বাধ্য থাকবে।
দ্বিতীয়ত ইসলাম উনার বিষয়টি এমন যে, প্রথমে নিজে আমল করতে হয় পরে তা মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে হয়। সুতরাং আমরা যদি সবাই নিজে শামসী সন ব্যবহার শুরু করি তবে তা একদিন ছড়িয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। আর যত মানুষকে জানানো হবে ততই এর ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পৃথিবীর সকল কম্পিউটার, ইলেকট্রনিক ডিভাইস, নেটওয়ার্কে গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডার দেয়া আছে। এই নতুন পদ্ধতি কিভাবে পুরনো পদ্ধতিকে অপসারণ করবে? এই বিষয়টি নির্ভর করবে মুসলিম বিশ্বের মধ্যে একতা এবং খিলাফত ব্যবস্থার উপর। এক সময় মুসলমানগণ বিশ্ব শাসন করেছে তখন উনাদের আইন প্রতিষ্ঠিত ছিল। পরে কাফির বেনিয়া বৃটিশরা তাদের সময়কালে তাদের আইন চাপিয়েছে। এখন সা¤্রাজ্যবাদীদের আইন চাপানো আছে মুসলিম বিশ্বসহ সকল দেশে। কিন্তু এদের এখন ভগ্ন দশা। আবারো ইসলাম জেগে উঠবে আর সম্মানিত ইসলাম অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত হবে এই বিশ্ব। ইনশাআল্লাহ। তখন সহজেই বিশ্বের সর্বত্র আত তাক্বউইমুশ শামসী সনই প্রচলিত হবে। ইনশাআল্লাহ।

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় থেকে শুরু করার কারণ

নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের সময় থেকে শুরু করার কারণ
নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার পবিত্র বিলাদতী শান মুবারক প্রকাশ উনার সময় চন্দ্র মাস গণনা হলেও সেসময় আরবগণ মাস আগ পিছ করতো (যাকে ইসলামী পরিভাষায় নাসী বলে)। আবার হিজরী সন গনণা শুরু হয় উনার পবিত্র বিছালী শান মুবারক প্রকাশের পর। হযরত কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহূ আলাইহিস সালাম উনার প্রস্তাবে হযরত ফারূক্বে আ’যম আলাইহিস সালাম তিনি নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক হিজরত শরীফ বছর থেকে হিজরী সাল গণনা শুরু করেন। যদিও হিজরত শরীফ সংঘটিত হয়েছিল পবিত্র রবীউল আউয়াল শরীফ মাস উনার মধ্যে কিন্তু হিজরী সাল গণনা শুরু হয় মুহররমুল হারাম শরীফ মাস থেকে। যাই হোক মুবারক বিছাল শরীফ বছর নির্দিষ্টভাবে জানা আছে বলে সেখান থেকে শামসী সন শুরু করা হয়েছে।

আমরা জেনেছি হিজরী ১১ সন থেকে শামসী ০ (শূণ্য) সন শুরু। তাহলে পার্থক্য হচ্ছে ১১ বছরের। কিন্তু বর্তমানে হিজরী সন চলছে ১৪৩৮ আর শামসী সন চলছে ১৩৮৪। পার্থক্য হচ্ছে ৫৪ বছর। তা কেন?
আমরা ইতোপূর্বে বলেছি হিজরী সন গণনা হয় চাঁদের আবর্তনের সাথে আর সৌর সন গণনা হয় সূর্যের আবর্তনের সাথে। আর হিজরী সনের সঙ্গে সৌর সনের পার্থক্য প্রতি বছর ১০ থেকে ১১ দিন। সুতরাং শুরু থেকে এই পর্যন্ত এই ৫৪ বছরের পার্থক্য এসে দাঁড়িয়েছে।

আত তাক্বউইমুশ শামসী সন শুরুর প্রেক্ষাপট

আত তাক্বউইমুশ শামসী সন শুরুর প্রেক্ষাপট
সাইয়্যিদুল মুরসালীন, ইমামুল মুরসালীন, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার মুবারক বিছালী শান মুবারক প্রকাশের বছর হচ্ছে ১১ হিজরী এবং সে বছরের পবিত্র ১২ই রবীউল আউওয়াল শরীফ। উক্ত মুবারক মাস উনার ১ম দিন অর্থাৎ ১লা রবীউল আউওয়াল শরীফ থেকে এই শামসী সনের ০ বছর ১ম মাস ১ম দিন শুরু হয়েছে। তাহলে আপনি যে বছর শামসী সন গণনা করবেন তত বছর পূর্বে নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি উনার বিছালী শান মুবারক প্রকাশ করেছিলেন। সুবহানাল্লাহ!
তাহলে খুব সহজেই নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার স্মরণ হচ্ছে। আলহামদুলিল্লাহ্!